ইরানের সাতদিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন মার্কিন প্রসেডিন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া, যুদ্ধবিরতি এবং পরমাণু আলোচনার ফের শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বোমাবর্ষণ ফের শুরু হতে পারে।
নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) ৮১তম সাধারণ সভায় যোগ দিতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘটি শুক্রবার সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওয়াশিংটনকে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ফের খোলা হবে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘটি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাব আমেরিকা কাছে পাঠানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে এবং গোটা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া জবাব, সন্ত্রাস চালানো নিয়ে হুঁশিয়ারি
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন ট্রাম্প (Donald Trump)। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump) তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ফের বোমামর্ষণ শুরু করা হবে।
চলতি সপ্তাহে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প (Donald Trump) বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের পরেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব।‘ তবে একই সঙ্গে ভাষণে ট্রাম্প অন্যান্য দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণভাবে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্ন’ করার আহ্বানও জানান।
নিউইয়র্কে আমেরিকা-ইরানের পরোক্ষ আলোচনা
ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রকাশ্য চাপের মধ্যেও রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল। অ্যাক্সিসওস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘটির সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যান। কাতারের কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করে।
এই আলোচনায় ইরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খোলা এবং পরমাণু আলোচনা ফের চালু করার জন্য তাদের শর্তগুলি তুলে ধরা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রণালী নিয়ে ইরান শর্ত আরোপ করতে পারে, এই সম্ভাবনা থেকেই আমেরিকা তা প্রত্যাখান করে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও নিউইয়র্কে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের মধ্যে ফের আলোচনা শুরুর পথ খুঁজতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত-চিনকে জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচল করত। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সামরিক চাপ এবং ইরানের বন্দরগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে উপসাগরীয় দেশগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ফের খুলে দেওয়া হতে পারে। ইরানের প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় কো পথে কূটনৈতিক সমাধান আসবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্প (Donald Trump)সংঘাতের পরবর্তী ধাপ নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর।
দেখুন:




