• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 8 August, 2026

ধেয়ে এল ভয়ঙ্কর টাইফুন ডলফিন: আতঙ্কে বাতিল ৫০০ ফ্লাইট, বন্ধ বন্দর

ঝেডিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশে সবোর্চ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্দর ও ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ধেয়ে এল ভয়ঙ্কর টাইফুন ডলফিন: আতঙ্কে বাতিল ৫০০ ফ্লাইট, বন্ধ বন্দর

Photo: Reuters

জাপানে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। শনিবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে টাইফুন ডলফিন আঘাত হানে। চিন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ফেরিঘাট ও বন্দর বন্ধ করে দিয়েছে। ওকিনাওয়ার মূল বিমানবন্দরও আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ৫০০-এর বেশি বিমান বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জাপানের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও উচ্চ জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে।

শনিবার ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে আঘাত হানে টাইফুন ডলফিন। ঝড়ের প্রভাবে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় পড়ে গিয়ে তিনজন আহত হয়েছেন। তবে কারও আঘাত গুরুতর নয়। কাগোশিমা প্রিফেকচারেও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে কাগোশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার ও ওকিনাওয়ায় প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে ওকিনাওয়াগামী ও ওকিনাওয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া বহু অভ্যন্তরীণ বিমান বাতিল করেছে দেশটির দুই বড় বিমান সংস্থা এএনএ ও জাপান এয়ারলাইন্স। টাইফুনের প্রভাবে কিউশুর দক্ষিণাঞ্চলেও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

গত সপ্তাহে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কুমামোতো প্রিফেকচার নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেখানে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ এখনও ত্রাণশিবিরে রয়েছেন। ভূমিকম্পে অনেক বাড়িঘর ধসে পড়ায় ঝড় ও ভারী বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছে সে দেশের প্রশাসন। জাপান পেরিয়ে টাইফুন ডলফিন চিনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর ঝড়টিকে অরেঞ্জ ক্যাটাগরি টাইফুন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে চিনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে সেটি ফের চিনে আঘাত হানতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝৌশান শহর থেকে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুদিং শহরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৫-১০১ মাইল পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় চিন টাইফুন মোকাবিলায় জরুরি পরিস্থিতির মাত্রা এক ধাপ বাড়িয়ে লেভেল-৩ করেছে। পূর্ব চিনের বিভিন্ন এলাকায় ১২ আগাস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ঝেডিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশে সবোর্চ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্দর ও ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফুজিয়ানেও বেশকিছু ফেরি চলাচল স্থগিত রয়েছে। সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দরে থাকা জাহাজগুলিকে শুক্রবারের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এরই মধ্যে ৭৮টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছেন, টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে জাপান, চিন ও তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশগুলিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।