দুর্দান্ত লড়াই করে বিশ্বের ৪৪ নম্বর পানামাকে আটকে দিল ১৩৮ নম্বর ভারত। শুক্রবার বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত লড়াই করে ভারতীয় দল ১-১ ড্র করে। তবে প্রথমার্ধে যতটা আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল তারা, দ্বিতীয়ার্ধে পানামার আক্রমণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ৪১ মিনিটে ভারতকে এগিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াজাত ফরোয়ার্ড রায়ান উইলিয়ামস। ৬৮ মিনিটের মাথায় সেই গোল শোধ করেন ভ্যালেন্সিয়া। তার পর থেকেই ব্যবধান তৈরির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলে আসা দলটি।
পানামার চেয়ে ৯৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা ভারত এদিন প্রথমার্ধে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন। যা প্রায় অপ্রত্যাশিতই ছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রায়ান উইলিয়ামস গোলও পেয়ে যান। এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে নামা উত্তর আমেরিকার দেশটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়।
এ দিন শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়ে যায় ভারত। আট মিনিটের মাথাতেই বাঁ দিক থেকে আকাশ মিশ্রর মাইনাসে যদি বক্সের মাঝখান থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারতেন রায়ান উইলিয়ামস, তা হলে ভারত শুরুতেই গোল করতে পারত। এর দশ মিনিট পর ফের গোলের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৬ মিনিটের মাথায় ফের রায়ানের শট জড়িয়ে যায় সাইড নেটে।
প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপার এবং বিশ্বের ৪৪ নম্বর হলেও ভারত কিন্তু এ দিন শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলে। রায়ানকে সামনে রেখে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করছিলেন মনবীর সিং, বিক্রম প্রতাপ সিংরা। গ্যালারির দর্শকদের তুমুল চিৎকারে পরিবশেও ছিল বেশ উত্তেজনায় ঠাসা। রক্ষণও বেশ জমাট ছিল ভারতের। কিন্তু পানামা ক্রমশ উইং-প্লে বাড়িয়ে ভারতের রক্ষণে ফাটল তৈরির চেষ্টা করে।
একাধিক চেষ্টার পর রায়ান উইলিয়ামস শেষ পর্যন্ত সফল হন ৪১ মিনিটের মাথায়। খেলার গতির বিপরীতে একটি লং বল পেয়ে আক্রমণে উঠে কর্দোবার পিছন দিয়ে দৌড়ে গিয়ে বলের দখল নেন রায়ান উইলিয়ামস। অ্যাটাকিং থার্ডে তিনি তখন পুরোপুরি আনমার্কড। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মার্কোস রেইসকে পরাস্ত করে শট নেন রায়ান এবং বল জালে জড়িয়ে যায়। অনেক সহজ সুযোগ থেকে গোল করতে না পারলেও রায়ান এই অসাধারণ গোলটি করেন প্রায় কার্যত একার চেষ্টায়। তাঁর গতির জন্য পানামার ডিফেন্ডাররাও তাঁর নাগাল পাননি। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ভারত।
বিরতির পর খেলা শুরু হতেই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে তোলে পানামা। প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান গিওভানি। টমাসের ক্রস পেয়ে গোলে শট নেন তিনি। কিন্তু তা দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন গুরপ্রীত সিং সান্ধু।
A clinical finish into the back of the net to give the Blue Tigers the breakthrough against Panama! 🦁
Watch India vs Panama, LIVE NOW on Sony Sports Network Channels, Sony LIV & Sony Aath!#SonySportsNetwork #SonyLIV #SonyAath #INDvPAN pic.twitter.com/Q62d56Swjk
— Sony Sports Network (@SonySportsNetwk) September 25, 2026
ক্রমশ রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া ভারতের লো ব্লকে কার্যত বিরক্ত হয়ে লং বলে খেলার চেষ্টা শুরু করে পানামা। পরপর কয়েকটি লংবল ভারতের বক্সে গিয়ে পড়লেও তা সামলে নেন উদ্বুদ্ধ আনোয়ার আলিরা। এর মধ্যেও অবশ্য গোলের সুযোগ তৈরি করেন রায়ানরা। ৬০ মিনিটের পর মনবীর দুবার রায়ানকে ক্রস পাঠান বক্সের মধ্যে। কোনোওবারই তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
ক্রমশ চাপ বাড়িয়ে তোলা পানামা অবশেষে গোল শোধ করে ৬৮ মিনিটের মাথায়। লং বলে খেলার কৌশলই শেষ পর্যন্ত পানামাকে সাফল্য এনে দেয়। আপুইয়াকে এড়িয়ে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নেন ভ্যালেন্সিয়া। বলটি নেমে এসে গোলের ডান দিকের উপরের কোণ ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মিনিট তিনেক পরেই ফের গোলের শট নেন ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু এ বার ব্লক করেন বিক্রম প্রতাপ।
ম্যাচের ৭৩ মিনিটের মাথায় রায়ান ও বিক্রমকে বসিয়ে সহাল আব্দুল সামাদ ও এডমন্ড লালরিন্ডিকাকে নামান ভারতের কোচ খালিদ জামিল। পরের মিনিটেই হার্ভের দূরপাল্লার জোরালো গোলমুখী শট দুর্দান্ত সেভ করেন গুরপ্রীত।
ড্রিঙ্কস ব্রেকের পর আক্রমণের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে তোলে পানামা এবং একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে তোলে ভারতের রক্ষণকে। তখনও ফের ব্যবধান তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় ভারত। শেষ দশ মিনিটে লালরিন্ডিকা ও মনবীরের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ মিনিটে সহাল ও জয় গুপ্তাও প্রতিপক্ষের গোলের সামনে ঝড় তোলেন।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আশিক কুরুনিয়ানকে তুলে জয় গুপ্তাকে নামায় ভারত। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট, রক্ষণকে আরও জমাটবদ্ধ করা। শেষ মুহূর্তের গোলে বাজিমাত করার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে পানামা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি তারা।




