• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 13 July, 2026

লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু ঘিরে জল্পনা, ষড়যন্ত্রের দাবি নিয়ে বিতর্ক

ভারতেও লিন্ডসে গ্রাহামের নাম আলোচনায় এসেছে। তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। তিনি একাধিকবার জানিয়েছিলেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তাহলে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা উচিত।

লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু ঘিরে জল্পনা, ষড়যন্ত্রের দাবি নিয়ে বিতর্ক

Photo: Statesman

মার্কিন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক মেডিক্যাল রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে অর্টিক ডিসেকশন বা ধমনী ছিঁড়ে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এদিকে  সমাজমাধ্যমে একাধিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাশিয়া, ইরান বা অন্য কোনও দেশের যুক্ত থাকার পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই গ্রাহাম ইউক্রেন সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সওয়াল করেন। সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৭১ বছরের গ্রাহাম এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়।

ট্রাম্পের শিবিরের সমর্থক কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সর ও পডকাস্টার দাবি করেছেন, এই মৃত্যুর নেপথ্যে বিদেশি শক্তির হাত থাকতে পারে। কেউ রাশিয়ার দিকে তো আবার কেউ ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে ইরানের কয়েকটি সরকারি সংবাদমাধ্যমে গ্রাহামের মৃত্যু নিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি একাধিকবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলী খামেনির বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও তীব্র সমালোচক ছিলেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুতিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন তিনি।

ভারতেও লিন্ডসে গ্রাহামের নাম আলোচনায় এসেছে। তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। তিনি একাধিকবার জানিয়েছিলেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তাহলে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা উচিত। পরে অবশ্য ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসাও করেন এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন।

২০০২ সাল থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনার সেনেটর ছিলেন গ্রাহাম। তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যও ছিলেন।  যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন গ্রাহাম। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।