তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলাতে বড় ধাক্কা খেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল গোষ্ঠী। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে এই মামলায় তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলাটি উঠেছিল। শুনানি শেষে আদালত ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দেয়।
শুনানিতে ঋতব্রতপন্থী শিবিরের দাবি ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই মামলার সঙ্গে তাঁদেরও প্রত্যক্ষ স্বার্থ জড়িত। সেই কারণেই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার অনুমতি চেয়েছিল তারা। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও পর্যবেক্ষণে জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত কর্তৃত্ব বা বৈধ নেতৃত্বের প্রশ্ন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। সেই বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে সেই বিতর্কের মধ্যে এই মুহূর্তে আদালত প্রবেশ করতে চায় না। আদালতের মতে, যে বিষয়টি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সামনে বিচারাধীন, সেই বিষয়ে হাইকোর্টের এই পর্যায়ে কোনও মতামত বা সিদ্ধান্ত দেওয়া সমীচীন হবে না। এই যুক্তিতেই ঋতব্রতপন্থী শিবিরের পক্ষভুক্তির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
এই মামলার সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মামলাতেই অন্তর্বর্তী আবেদন করা হয়েছিল। সোমবার সেই আবেদনের শুনানি শেষ হলেও আদালত কোনও তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়নি। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, অন্তর্বর্তী আবেদন নিয়ে রায় পরে ঘোষণা করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলায় ঋতব্রতপন্থী শিবিরের পক্ষভুক্তির আবেদন খারিজ হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্তৃত্ব নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সেই বিতর্কের নিষ্পত্তির দায়িত্ব আপাতত নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে হাই কোর্ট কোনও অবস্থান নিতে রাজি নয়।
সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নতুন করে উঠে আসে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষে দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলা করার বৈধ আইনি অধিকার তাঁদের রয়েছে কি না, তা নিয়ে আপত্তি তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
আদালতে ইডির হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী এস. ভি. রাজু দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এই মামলা দায়েরের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, তার কোনও প্রমাণ আদালতের সামনে আনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিই দলের নীতিনির্ধারণী সংস্থা। ডেরেক ও’ব্রায়েন ওই কমিটির একজন সদস্য হলেও তিনি নিজে কোথাও উল্লেখ করেননি যে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তাঁকে এই মামলা করার অনুমতি দিয়েছে। সেই কারণে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনও ব্যক্তি দলের হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন না বলেই ইডির দাবি।
এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর বক্তব্য, কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পরিচয় বা বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তদন্তকারী সংস্থার নেই। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রশাসন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।
সমস্ত যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি শোনার পর আবেদনের প্রেক্ষিতে রায়দান স্থগিত রাখে কলকাতা হাইকোর্ট। এখন আদালতের নির্দেশের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির।




