রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলির বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমর্থনে চারজন মার্কিন সিনেটর ‘স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট, ২০২৫’ নামে সংশোধিত বিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্দান্ত নিয়েছেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা পেট্রলিয়ম পণ্য কেনা দেশগুলির রপ্তানির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক চাপানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় ভারতের উপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এই বিলের প্রস্তাব দেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রজার উইকার এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও জিন শাহিন। তাঁদের দাবি, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস বিক্রির অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। তাই যারা রুশ জ্বালানি কিনছে, তাদের কঠোর মূল্য চোকাতে হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে কোনও দেশকে সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিতে পারবেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমের বহু দেশ রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। যদিও ভারত তুলনামূলক কম দামে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল কেনা শুরু করে। দিল্লির অবস্থান ছিল স্পষ্ট, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ যেখানে সুরক্ষিত হবে, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে।
এর আগে রুশ তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পরে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে আমেরিকা সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। ভারতকে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেয়। সেই ছাড়ের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।
মার্কিন সিনেটে ইতিমধ্যেই ৮৪ জন সিনেটর এই বিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে। যদিও সংশোধিত খসড়ার চূড়ান্ত রূপ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই ভারতের উপর ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখন বিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। এখন সেই দিকেই নজর রয়েছে রাজধানীর।




