পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoK) নির্বাচন ঘিরে চরম অশান্তি। বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমননীতির অভিযোগে উত্তাল গোটা এলাকা। কমপক্ষে ২০ জন মারা গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও মৃতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। তবে পরিস্থিতি যে ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে, তা স্পষ্ট। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে গোটা ঘটনায়।
বিক্ষোভের গোড়ায়
জুন মাস থেকেই জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চড়া দাম, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং বিধানসভায় সংরক্ষিত আসনে কারচুপির অভিযোগে পথে নেমেছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। এরপর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (Joint Awami Action Committee) বা জেএএসি (JAAC) রাওয়ালাকোট থেকে মুজফফরাবাদ পর্যন্ত একটি লং মার্চের ডাক দেয়। সেই মিছিল ঘিরেই ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ, যা এখন গোটা রাওয়ালাকোট এবং মিরপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
Not Ghaza, this is PoK. pic.twitter.com/pxDlMcsrvY
— Wazhma Ayoubi 🇦🇫 (@WazhmaAyoubi) July 29, 2026
মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
জেএএসি-র (JAAC) দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩৭ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পাকিস্তান প্রশাসন এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (Tehrik-e-Taliban Pakistan-এর সদস্যরাও ছিল। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসবে না সরকার, আইন নিজের পথেই চলবে। জেএএসি অবশ্য বারবার দাবি করেছে, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জও। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বিক্ষোভে মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। জেএএসি-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সন্ত্রাসদমন আইন প্রয়োগ করাকেও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মত প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও (Amnesty International) বিক্ষোভকারীদের উপর মারাত্মক বলপ্রয়োগের অভিযোগকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে স্বাধীন পর্যবেক্ষক পাঠানোর দাবি তুলেছে।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের এই ঘটনায় অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পাকিস্তান অধিকৃত এলাকায় যে গণবিক্ষোভ চলছে, তা আসলে কয়েক দশক ধরে চলা শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের পরিণতি। জম্মু, কাশ্মীর এবং লাদাখ… এই গোটা ভূখণ্ড (যার মধ্যে পাকিস্তানের দখলে থাকা এলাকাও রয়েছে) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের স্পষ্ট করেছেন তিনি। পাকিস্তান অধিকৃত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ভারত একটি জলজ্যান্ত প্রহসন বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের সাফ কথা, এই নির্বাচনী নাটকের মধ্যে দিয়ে বেআইনি দখলদারিকে আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান।
Q: India has called out New York Times for referring to PoK as “Pakistani Kashmir”. Is this a pattern of foreign media undermining India’s sovereignty?
MEA: These territories are and will continue to be a part of India. We urge all stakeholders to use the correct nomenclature pic.twitter.com/IVxJ4eFriR
— Shashank Mattoo (@MattooShashank) July 31, 2026
কেন গুরুত্বপূর্ণ
সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কাছেও দেশের নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক অস্থিরতা সংক্রান্ত যে কোনও খবর গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশের যে কোনও প্রান্তে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব গোটা অঞ্চলের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই এসে পড়ে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের এই সংকট তাই শুধু জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত বিতর্ক নয়, ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ও কূটনীতির প্রেক্ষাপটেও এটি নজরে রাখার মতো ঘটনা।




