• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 9 June, 2026

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ফের অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংঘর্ষে একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ফের অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা গিয়েছে।

প্রতিবাদী সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তাঁদের দাবি, গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১১ এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আর্থিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) আন্দোলনের ডাক দেয়। পরে প্রশাসন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভের সূচনা হয় রাওয়ালকোট এলাকায়। অভিযোগ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এক ব্যবসায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। গত শুক্রবার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার একটি হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত এক বিক্ষোভকারীর দেহ ঘিরে প্রতিবাদে সামিল হন বহু মানুষ। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খানের দাবি, সংঘর্ষের সময় ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। প্রশাসনের আরও অভিযোগ, প্রতিবাদীদের একাংশ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি চালায় এবং বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে রাওয়ালকোট-সহ একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে গত শুক্রবার থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এলাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।