• facebook
  • twitter
Tuesday, 26 May, 2026

একদিকে ইউরেনিয়াম ইস্যুতে সুর নরম, অন্যদিকে ইরানে ফের হামলা আমেরিকার

ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থান ঘিরে নতুন করে চর্চা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

একদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বার্তা, অন্যদিকে দক্ষিণ ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা— প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আগের তুলনায় নমনীয় অবস্থান নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সোমবার রাতে দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে ইউনাইটেড স্টেটস্ সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতার চেষ্টা করা কিছু নৌকাকে নিশানা করা হয়েছিল। যদিও ঠিক কোন এলাকায় হামলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি আমেরিকা। সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি চলছে। ফলে সেইভাবে ‘সংযম’ বজায় রেখেই নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করছে আমেরিকা।

Advertisement

এই বিস্ফোরণের কেন্দ্র ছিল দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বন্দর আব্বাস। শহরটি ইরানের নৌ ও বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। পরে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস্ জানায়, বন্দর আব্বাস শহরে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। যদিও বিস্ফোরণের কারণ উল্লেখ কর হয়নি। পরে আবার আইআরজিসি জানায়, বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণ হয়েছে। আরও বলা হয়. শত্রুপক্ষকে আটকাতে সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

Advertisement

এদিকে ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের নরম মনোভাবের মধ্যেই ফের বিস্ফোরণের ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নিজের অবস্থানে কিছুটা বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এত দিন তিনি বলে এসেছিলেন, ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতেই হবে।

কিন্তু সোমবার রাতে তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে করা পোস্টে ট্রাম্প জানান,  ইরানে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতেই হবে। এই ধ্বংসের কাজ ইরান বা আমেরিকাতেও করা যেতে পারে, অথবা অন্য কোনও বিকল্প জায়গায়। আমেরিকার পরমাণু শক্তি কমিশন বা অন্য কোনও সমতুল্য সংস্থার উপস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।

ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে চালানো হয়ে থাকে। তব আমেরিকার আশঙ্কা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। সেই সন্দেহ থেকেই গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। এরই মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কাতারে গিয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদল। শান্তি আলোচনা চলাকালীনই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের বিষয়ে নতুন প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Advertisement