• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 14 July, 2026

কার্যকর হল ভারত-ইংল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

অবশেষে কার্যকর হল ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ। দীর্ঘ ১৪ দফা আলোচনার পর ২০২৫-এর

কার্যকর হল ভারত-ইংল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

Pic Source- AI

অবশেষে কার্যকর হল ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ। দীর্ঘ ১৪ দফা আলোচনার পর ২০২৫-এর জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্রিটিশ পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে কমবে, তেমনই ভারতীয় রপ্তানিকারীরা ইংল্যান্ডের বাজারে প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন।

এই চুক্তির ফলে পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও জুতো, কার্পেট, সামুদ্রিক পণ্য, রত্ন ও গয়না, খেলনা, ক্রীড়া সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফল, শাকসবজি, মশলা, মাছ ও মাংস-সহ একাধিক শ্রমনির্ভর শিল্প বড় সুবিধা পাবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো কম্পোনেন্ট, ইলেকট্রনিক্স, রাসায়নিক ও ধাতু শিল্পের জন্যও যুক্তরাজ্যের বাজার আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারতীয় বাজারেও ধীরে ধীরে কমবে একাধিক ব্রিটিশ পণ্যের দাম। স্কচ হুইস্কি, জিন, চকোলেট, বিস্কুট, প্রসাধনী, সুগন্ধি, সাবান, নরম পানীয়, স্যালমন মাছ-সহ বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক পর্যায়ক্রমে হ্রাস পাবে। স্কচ হুইস্কির ক্ষেত্রে বর্তমান ১৫০ শতাংশ শুল্ক প্রথম ধাপে ৭৫ শতাংশে নামবে এবং আগামী ১০ বছরে তা কমে ৪০ শতাংশ হবে।

অটোমোবাইল ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাজ্যে তৈরি গাড়ির ওপর ভারতের ১১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে নির্দিষ্ট কোটা ব্যবস্থার আওতায়। একই সঙ্গে ভারতীয় বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড ও হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে।

তবে সব পণ্যে ছাড় মিলছে না। তাজা আপেল, আখরোট, নির্দিষ্ট কিছু দুগ্ধজাত পণ্য, সোনার বার, স্মার্টফোন-সহ কয়েকটি পণ্যের ওপর ভারত কোনও শুল্ক ছাড় দিচ্ছে না। একইভাবে যুক্তরাজ্যও কিছু কৃষি ও খাদ্যপণ্যকে এই চুক্তির বাইরে রেখেছে।

এই চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন’। এর ফলে যুক্তরাজ্যে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের ৫ বছর পর্যন্ত দুই দেশেই একসঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অর্থ জমা দিতে হবে না। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য এটি বড় স্বস্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সহযোগিতা আরও গভীর করবে। তাঁর কথায়, ভারতীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, কারিগর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের ভোক্তারাও প্রতিযোগিতামূলক দামে উন্নত মানের বিদেশি পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।

সরকারের আশা, এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী দিনে ভারত-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।