• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 12 August, 2026

দ্বিতীয়বারের মতো ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সেনা ও গোলাবারুদ দিয়ে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি, পুরনো মিত্র চিনের সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কিম। গত জুনে ৭ বছর পর প্রথম বার উত্তর কোরিয়া সফর করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

দ্বিতীয়বারের মতো ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

Photo: প্রতীকী ছবি(BBC)

দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার আগে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। বুধবার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী জলসীমায় গিয়ে পড়ে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা নাগাদ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে। জাপানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রে পড়েছে। ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ উৎক্ষেপণকে ‘উস্কানিমূলক কাজ’ বলে নিন্দা করেছে। আমেরিকার সহযোগিতায় উত্তর কোরিয়ার যে কোনও উস্কানি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে সিওল।

আগামী ১৭ আগস্ট থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা শুরু করতে চলেছে বার্ষিক সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। পিয়ংইয়ং বরাবরই এই মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রস্তুতি বলে দাবি করে এসেছে। ফলে মহড়া শুরুর ঠিক আগে কিম জং উনের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক তৎপরতার পাল্টা বার্তা দিতেই ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

গত ৬ আগস্টও একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল পিয়ংইয়ং। জুনের শেষের পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এবার ফের উৎক্ষেপণ করে কিম বুঝিয়ে দিলেন, সামরিক কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসার কোনও ইঙ্গিত নেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিষিদ্ধ হলেও পিয়ংইয়ং তার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে চলেছে।

এদিকে, সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সেনা ও গোলাবারুদ দিয়ে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি, পুরনো মিত্র চিনের সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কিম। গত জুনে ৭ বছর পর প্রথম বার উত্তর কোরিয়া সফর করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফলে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও তার মিত্রদেরও বার্তা দিচ্ছেন কিম, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উত্তর কোরিয়ার এই ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে অবশ্য এখনও পিয়ংইয়ংয়ের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সামরিক মহড়ার আগে ফের অস্ত্র পরীক্ষা করে কিম ফের চাপ বাড়ানোর কৌশলেই হাঁটছেন বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।