প্রায় সাত বছর পরে উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে। চিন ও উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। ২০১৯ সালের জুনের পরে এই প্রথম পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট।
এই সফরটা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছেন। সেই সঙ্গে চিনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। চিন উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সহযোগীও বটে।
বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের বাড়তে থাকা সম্পর্কের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় নিজের প্রভাব অটুট রাখতে চাইছে বেইজিং। আন্তর্জাতিক সংকট গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াংয়ের মতে, শি জিনপিং এই সফরের মধ্যে দিয়ে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় চিনের কৌশলগত স্বার্থ পুনর্ব্যক্ত করতে চাইছে। এর পাশাপাশি বেইজিং উত্তর কোরিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বার্তাও দিতে চাইছে।
তবে এই সফর ঘোষণার একদিন আগেই উত্তর কোরিয়া একটি নতুন স্থাপনার কথা প্রকাশ্যে আনে। আর তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপাদান উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ওই স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশের পরমাণু শক্তি দ্রুত গতিতে বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন। উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র বাড়াতে যে বদ্ধপরিকর তা কিম জং উনের ইঙ্গিত থেকে স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শি জিনপিংয়ের সফরের আগে এই তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য হতে পারে উত্তর কোরিয়াকে একটি পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ। ওয়াশিংটন এখনও দেশটির পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কিম জং উন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনও আলোচনা শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে সেই দাবি থেকে সরে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে শি জিনপিং ও কিম জং উনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছিলেন।




