কাতারে দ্বিতীয় দফার শান্তি-আলোচনা কবে হবে, তা এখনও জানা যায়নি, আর এরই মধ্যে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিল ইরান। সে দেশের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন সমঝোতা মউ-এর শর্ত মেনে না চললে তেহরান যুদ্ধের জন্য তৈরি। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোবে না।
এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ অভিযোগ করেন, আমেরিকা বারবার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব। তাঁর মতে, আলোচনা কেবল একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য নয়, বরং সমঝোতা মউ-এর ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।‘
গালিবাফ জানান, মউ স্বাক্ষরের পর উভয় দেশ ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। যা এই সমঝোতার অন্যতম বড় সাফল্য। ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমঝোতার শর্তগুলি সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জনয আমেরিকা ও ইরানের যৌথ প্রচেষ্টায় একটি তদারকি দল গঠন করার কথা রয়েছে। যদিও দলটির কাঠামো ও কার্যপ্রণালি এখনও স্পষ্ট নয়। গালিবাফের বক্তব্য সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাঁর কথায়, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইরান চার কোটি ব্যারলেরও বেশি অপরিশোদিত তেল রপ্তানি করেছে। গালিবাফ জানা, হরমুজ প্রণালীর উপর ইরান ও ওমানের যৌথ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং এই জলপথে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। সমঝোতা মউ-এর শর্ত অনুযায়ী, পণ্যবাহী জাহাজ ৬০ দিন বিনামূল্যে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘হরমুজের উপর ইরান কখনো তার অধিকারর ছেড়ে দেবে না। এটি আমাদের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ।‘
এদিকে, কাতারে সম্ভাব্য আমেরিকা-ইরান বৈঠক ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠক কাতারে হবে এবং ইরানের অনুরোধেই যুক্তরাষ্ট আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার সেই বৈঠক আর হয়নি। একই সময়ে হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের বিশে, দূত স্টিভ ইউটকফ ও তাঁর জামাই জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। ইরানও একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কাতারে প্রতিনিধি পাঠানোর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্ররাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক হবে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিদের কাতারে যাওয়ার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদলের সফরের কোনও সম্পর্ক নেই।‘
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা মউ স্বাক্ষরের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু পরে উভয় দেশেই একাধিকার হামলার অভিযোগ তুলে একে অপরকে দোষারোপ করে। বর্তমানে আবারও সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হলেও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মত, দুই দেশেই বিপক্ষের ক্ষমতা যাচাই করে নিতে চাইছে। ছোটখাটো হামলা চললেও কেউই পুরোদমে যুদ্ধ করতে চাইবে না। উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চাইছে দুই দেশ




