দেশে ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ এবং বন্দি করেছে ট্রাম্প। তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কিউবা, ইরান, রাশিয়া, কলম্বিয়া কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
মাদুরোকে বন্দি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম বিবৃতি জারি করে চিন। তারপর রবিবার সকালে ফের বিবৃতি দেয় বেজিং সরকার। অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তির দাবি জানায় চিন। ভেনেজুয়েলার সরকারের যাতে পতন না-ঘটে সে বিষয়েও নিশ্চিত করতে বলে শি জিনপিং-এর সরকার। আমেরিকার উপর আরও চাপ বাড়াতে এবার মুখ খুললেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
Advertisement
সোমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেই সময় বিশ্বের বর্তমান ‘অস্থিরতা’ নিয়ে মন্তব্য করেন জিনপিং। একতরফা আধিপত্যবাদে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি। আমেরিকার কথা না বললেও আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে জিনপিং পরোক্ষ ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বার্তা দিয়েছেন। চিন-ভেনেজুয়েলার মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত।
Advertisement
বিশ্বের বৃহত্তম তেলভাণ্ডার ভেনেজুয়েলায় রয়েছে। সেই দেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তেল কেনে বেজিং। ভেনেজুয়েলার খনিজ তেলের ভাণ্ডারের দিকেই নজর আমেরিকার, মত কূটনৈতিক মহলের। এই পরিস্থিতিতে জিনপিং হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘গোটা বিশ্ব এখন একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। গত এক শতকেও এমন অস্থিরতা দেখা যায়নি। এমন একতরফা আচরণ এবং গুন্ডামিতে আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও দেশের জনগণ যে উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছেন, সকল রাষ্ট্রের উচিত তাকে সম্মান করা। আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ মেনে চলা উচিত। বিশেষত বৃহৎ শক্তিগুলির উচিত এ ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া।’ ভেনেজুয়েলার আমেরিকার আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্টকে আটক নিয়ে প্রথম থেকেই সরব বেজিং। তাদের বিদেশ মন্ত্রক একাধিক বিবৃতি জারি করেছে। সোমবারও অবিলম্বে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে শি জিনপিং নিজে এত দিন চুপ ছিলেন। এ বার তিনিও মুখ খুললেন।
সেই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল নিয়ে আগামী দিনে চিনের অবস্থান কী হবে, তাও জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়াং বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অপহরণ নিয়ে চিন গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’ মাদুরোর অপহরণের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস আপাতত ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ভেনেজুয়েলার এই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চিন যোগাযোগ রাখছে। কারাকাসের সঙ্গে বেজিঙের ইতিবাচক কথোপকথন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র।
ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই দরকষাকষি শুরু হতে পারে আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভাণ্ডারে আমেরিকা নিজের নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে চিন কি সেখান থেকে তেলের আমদানি চালিয়ে যেতে পারবে, সোমবার সেই প্রশ্ন করা হয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রকে। লিন সরাসরি তেলের কথা বলেননি।
তিনি জানিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে সম্মান করে চিন। দু’টি সার্বভৌম দেশের মধ্যে যে সহযোগিতার সম্পর্ক থাকে, আমাদের মধ্যেও তা রয়েছে। এই সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের অভ্যন্তরীণ আইন দ্বারা সুরক্ষিত। আমাদের বিশ্বাস, ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি সামলাবে।’
Advertisement



