• facebook
  • twitter
Saturday, 7 March, 2026

ইরানে আরও ভয়ঙ্কর হামলার হুঁশিয়ারি আমেরিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করলে কোনও ধরনের আলোচনায় বসার প্রশ্নই উঠবে না।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল আকার ধারণ করছে। শনিবার সংঘাত অষ্টম দিনে পড়তেই উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। এরই মধ্যে ইরানের উদ্দেশে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের ইঙ্গিত, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক আঘাত হানা হতে পারে।

এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমেরিকার কোষাগার দপ্তরের প্রধান স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই হামলার মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটি, মিসাইল তৈরির কারখানা এবং বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি। তাঁর দাবি, এই ধরনের আঘাত হানতে পারলে ইরানের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।

Advertisement

স্কট বেসেন্ট আরও অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। তাঁর কথায়, ‘হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সেখানে কোনও ধরনের বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতির উপর পড়বে।’

Advertisement

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘ইরানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় অংশই মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে।’ এর মধ্যেই শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ধেয়ে যায়। সেই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক মিসাইল ছুড়ে পাল্টা হামলা চালায়। ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। নিরাপত্তার স্বার্থে বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় শিবিরে যেতে দেখা যায়। যদিও এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকা ইজরায়েলের জন্য নতুন করে প্রায় ১৫১ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করলে কোনও ধরনের আলোচনায় বসার প্রশ্নই উঠবে না।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, নিজেদের দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তেহরান। ফলে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement