• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 13 June, 2026

যুদ্ধবিরতির জল্পনায় কমল তেলের দাম, ভারতের জন্য স্বস্তির বার্তা

ভারতের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করা হয় এবং সেই তেলের বড় অংশ আসে হরমুজ হয়ে

ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই হঠাৎ আশার বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী আবার সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে।

এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারের নিচে নেমে যায়। পরে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দাম প্রায় ৮৭.৫০ ডলারে স্থির হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই ঘোষণার পর তা কিছুটা কমেছে।

ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করা হয় এবং সেই তেলের বড় অংশ আসে হরমুজ হয়ে। ফলে এই পথ স্বাভাবিক হলে আমদানি খরচ কমতে পারে। তার প্রভাব তখন পড়বে পেট্রল-ডিজেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর।

এই খবরের প্রভাব দেখা গিয়েছে শেয়ার বাজারেও। শুক্রবার সেনসেক্স ২.৩০ শতাংশ বেড়ে ৭৫, ৫২৭. ৯৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিমান পরিবহণ, ব্যাঙ্কিং, ও আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের শেয়ারগুলিতে উত্থান দেখা গিয়েছে। তবে ইতিবাচক সাড়া দিলেও ইরান ট্রাম্পের দাবিকে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত করেনি। তেহরানের বক্তব্য, কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কণ্টকমুক্ত এমন কথাও বলা যাচ্ছে না। তবে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আপাতত স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মতো তেল-নির্ভর অর্থনীতি সেই স্বস্তির সুফল পাওয়ার আশায় রয়েছে।