পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহণ হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল বজায় রাখতে বড় আর্থিক পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ বীমা ও আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, আমেরিকার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা জাহাজগুলিকে রাজনৈতিক ঝুঁকির বীমা এবং আর্থিক গ্যারান্টি দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘অবিলম্বে আমি নির্দেশ দিয়েছি যাতে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকির বীমা ও আর্থিক নিরাপত্তা দেয়। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহণ যাতে অবাধে চলতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।’
Advertisement
বর্তমানে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চালাতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কারণ, এই অঞ্চলে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায় অনেক বেসরকারি বীমা সংস্থা জাহাজগুলিকে বীমা দিতে পিছিয়ে আসছে। ফলে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বড় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Advertisement
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ বৈঠকে প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আমেরিকা অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত। তিনি বলেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
হোয়াইট হাউসের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের মাধ্যমে দেওয়া নতুন বীমা সুবিধা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা তেলবাহী জাহাজ ও পণ্যবাহী জাহাজ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
প্রেস সচিবের বক্তব্য, প্রশাসন ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে জ্বালানি বাজার ও জাহাজ চলাচলের উপর। তাঁর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে কিছুটা পতন হয়েছে এবং বর্তমানে বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমেরিকা আসলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করার চেষ্টা করছে যা বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলি তৈরি করেছে। টেক্সাসের এক আইন ও বীমা বিশ্লেষক মার্ক গ্রেভলি সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল থমকে যাওয়ার মূল কারণ সামরিক হামলার ভয় নয়, বরং বীমা বাজারের সরে দাঁড়ানো।
গ্রেভলির কথায়, ‘ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়নি। বীমা বাজার ভেঙে পড়ায় জাহাজ চলাচল থমকে গেছে।’ তাঁর মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল, বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলি যেখানে ঝুঁকি নিতে চাইছে না, সেখানে আমেরিকার সরকার নিজেই নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ভূমিকা নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত। পারস্য উপসাগরকে বিশ্বের প্রধান সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত করে এই সরু জলপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথগুলির একটি হিসেবে ধরা হয়।
এই পথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, সংঘাতের সাময়িক প্রভাব আমেরিকার অর্থনীতি সামাল দিতে পারবে এবং জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement



