চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine war) অবসানে প্রয়োজনে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত ভারত। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর(Jaishankar)। যুদ্ধ শুরুর পর (Russia-Ukraine war) এই প্রথম ইউক্রেন সফরে গেলেন তিনি(Jaishankar)। তাঁর সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সফরে রয়েছেন জয়শঙ্কর।
বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত (Russia-Ukraine war) , কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং যুদ্ধের জেরে ভারতীয় নাবিক-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের অবসানে ভারত কোনওভাবে সাহায্য করতে পারলে পাশে থাকবে।
যুদ্ধ থামাতে (Russia-Ukraine war) আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই সওয়াল করে আসছে দিল্লি। এবার কিয়েভে গিয়ে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী(Jaishankar)। সূত্রের খবর, প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রেও ভারত প্রস্তুত বলে ইউক্রেনকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: জন্মাষ্টমী- বাংলা তথা গোটা ভারতের বৃহত্তর সংস্কৃতির অঙ্গ
জয়শঙ্করের (Jaishankar)সফরের আগে কিরঘিজস্তানের বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। সেখানে তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়। তাই ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখে সংঘাতের সমাধানের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
এদিকে কিয়েভ সফরের পর জয়শঙ্করের (Jaishankar)পোল্যান্ড যাওয়ার কথা। সেখানে পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের কিয়েভ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নয়, যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রেও ভারতের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।




