রাত যখন গভীর, দেশের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে, সেই সময়ই শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে ভারতের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান জিএসএলভি–এফ-১৭ (GSLV-F17) । শুক্রবার ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে জিএসএলভি-এফ ১৭ রকেটের মাধ্যমে উপগ্রহটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়। সঙ্গে রয়েছে পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ইওএস-০৫।
শুক্রবার সকালে ইসরো জানিয়েছে, জিএসএলভি-এফ ১৭ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে আগের থেকে ঠিক করে রাখা ‘সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট’-এ স্থাগিত হয়েছে জিস্যাট-১এ। ইসরোর ডিরেক্টর ভি নারায়ণন বলেন,’ আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, জিএসএলভি-এফ১৭ রকেট অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ভারতের প্রথম জিওসিঙ্ক্রোনাস-অরবিট ইমেজিং স্যাটেলাইট ইওএস-০৫-কে সফল এবং নিখুঁতভাবে কমপক্ষে স্থাপন করেছে। জিএসএলভি মিশন ডিরেক্টর থমাস কুরিয়ান জানিয়েছেন, জিএসএলভি-র মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ। তাঁর কথায়, ‘জিএসএলভি-র ১৯ তম মিশন সফল’।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২৫ মিনিটে কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উৎক্ষেপণ হলে জিএসএলভি-এফ ১৭ (GSLV-F17) প্রায় ২,৩৬৭ কিলোগ্রাম ওজনের ইওএস-০৫-কে সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করার সময় নির্দিষ্ট হয়েছে। পরবর্তী সময় উপগ্রহটি প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে পৌঁছবে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই ধরনের কক্ষপথ থেকে একই অঞ্চলকে বারবার পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ফলে ভারতের পাশাপাশি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘন ঘন ছবি পাওয়া যাবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় এই উপগ্রহের গুরুত্ব বিশেষ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মেঘভাঙা বৃষ্টি বা প্রবল ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্রুত ছবি তুলে পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে ইওএস-০৫। কৃষি, বনজ সম্পদ, জলাশয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণেও উপগ্রহটির তথ্য ব্যবহার করা যাবে। বিভিন্ন পৃষ্ঠতল থেকে প্রতিফলিত আলোর বর্ণবৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। লক্ষ্য, বড় এলাকার ছবি প্রায় ‘নিয়ার রিয়েল-টাইম’-এ পাওয়া।
আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় রাজি ভারত
এই উৎক্ষেপণের দিকে বাড়তি নজর রয়েছে ইসরোর সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণেও। তাদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রকেট পিএসএলভি পরপর কয়েকটি অভিযানে ব্যর্থ হওয়ায় আপাতত তার উড়ান বন্ধ রেখে তদন্ত চলছে। যদিও পিএসএলভি ও জিএসএলভির প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিন ব্যবস্থা আলাদা, তবু সেই ধাক্কার পর জিএসএলভি- এফ ১৭-এর সাফল্য ইসরোর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
জিএসএলভি একসময় অনিশ্চিত আচরণের জন্য ইসরোর অন্দরে ‘নটি বয়’ নামে পরিচিত ছিল। তবে দেশীয় ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করে রকেটটি ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক বাধা সত্ত্বেও ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই ইঞ্জিন তৈরি করেছিল। আজ তাই পরীক্ষা শুধু ইওএস-০৫-এর নয়, ইসরোর ‘নটি বয়’-এরও—সাম্প্রতিক ধাক্কা কাটিয়ে সে ফের সাফল্যের কক্ষপথে উঠতে পারে কি না, নজর সেদিকেই।
দেখুন:




