রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপ যত বাড়ছে, ভারত যেন ততই নিজের অবস্থানে অনড়। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ তেল আমদানিকারক দেশগুলির উপর সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের হুমকির মধ্যেও রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনা কমায়নি দিল্লি। বরং জুন মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। জুলাইতেও রুশ তেল আমদানি টানা দ্বিতীয় মাসে রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে।
‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ বা সিআরইএ-র তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ভারত প্রায় ৫৫০ কোটি ইউরো মূল্যের রুশ জীবাশ্ম জ্বালানি কিনেছে। এর ৮৭ শতাংশই ছিল অপরিশোধিত তেল। রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি ইউরো, যা জুনের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি। জুনে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি ইউরো। পরিমাণের হিসাবেও ছবিটা স্পষ্ট।
জুনে ভারত ৮৭ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত রুশ তেল আমদানি করেছে। মে মাসের তুলনায় তা মাত্র ১ শতাংশ কম হলেও, ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। অথচ ওই মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানি নেমে এসেছে ১ কোটি ৮২ লক্ষ মেট্রিক টনে। মে মাসের তুলনায় যা ১৬.৫ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে তেল আমদানি কমলেও রাশিয়ার ক্ষেত্রে সেই ছবি দেখা যায়নি। ফলে জুনে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ পরিমাণের হিসাবে ৪৮ শতাংশে পৌঁছে যায়। অর্থমূল্যের হিসাবে সেই অংশ আরও কিছুটা বেশি—৪৮.৬ শতাংশ।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রুশ তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা বাড়ছে। বিশেষ করে মার্চ থেকে প্রতি মাসেই তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর মধ্যেই রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা। মার্কিন সেনেট ৮৬-১১ ভোটে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট, ২০২৬’ অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতাদের আমদানির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক
ভারত ও চিনের মতো দেশের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। তবে এখনও ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়নি। বিলটি আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হতে হবে। তারপরে প্রশাসন ঠিক করবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে কি না। এমনকী বিশেষ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুল্ক কমাতে বা ছাড় দিতে পারেন। অন্যদিকে, ভারতের মোট তেল আমদানির খরচেও ওঠানামা দেখা গিয়েছে। জুনে অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ মে মাসের তুলনায় ২২ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় তা ৪০ শতাংশ বেশি ছিল। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক সস্তা রুশ তেল ভারতের কাছে এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প তা বলাই বাহুল্য। ফলে আমেরিকার সম্ভাব্য শুল্ক-চাপের মধ্যেও মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে আপাতত পিছিয়ে আসার কোনও লক্ষণ নেই দিল্লির।




