• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 24 August, 2026

বিনা বিচারে আটক নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের সমালোচনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ 

এলেন পিয়ারসনের বক্তব্য, অভিযোগ গঠনের আগেই বয়স্ক বন্দিদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের সরকারের উচিত কারাগারে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করা এবং কোনও অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘদিন মানুষকে আটকে রাখা বন্ধ করা।

বিনা বিচারে আটক নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের সমালোচনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ 

File Photo

বাংলাদেশের কারাগারগুলিতে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি। তার মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও অন্যদের দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘমেয়াদে আটক করে রাখা এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে এখনও বহু মানুষ কোনও অপরাধে সরকারিভাবে অভিযুক্ত না হয়েও জেলে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি এইচআরডব্লিউর। সংগঠনের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কেউ কেউ যুক্ত থাকতে পারেন। কিন্তু অনেককেই আবার আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগে স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলেন পিয়ারসন বলেন, ‘এক সরকারের পর আর এক সরকারের আমলে প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই শয়ে শয়ে রাজনৈতিক বিরোধীকে আটক রাখা হয়েছে।’ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘদিনের ‘নির্বিচার’ আটক বন্ধ করে বিচারব্যবস্থায় সংস্কার করা।

সংস্থাটির অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে জামিনের আবেদন একাধিকবার খারিজ করা হয়েছে। এমনকী উচ্চ আদালত জামিন দেওয়ার পরেও নতুন মামলা করে মুক্তি আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ঘটনাও তুলে ধরেছে এইচআরডব্লিউ। ৮২ বছর বয়সের খায়রুল হককে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের পর একাধিক মামলায় আটক রাখা হয়। অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও তাঁকে দীর্ঘদিন মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপে গত ১৯ আগস্ট তিনি মুক্তি পান। এইচআরডব্লিউর দাবি, পুরো সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ নির্ধারণ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ব্যক্তিদের নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ট্রাইব্যুনালে ১৬০ জনের বেশি মানুষ আটক রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার প্রাক্তন উপদেষ্টা ৮১ বছরের তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং প্রাক্তন সাংসদ ৭৫ বছরের কামাল আহমেদ মজুমদার ২২ মাস ধরে অভিযোগ গঠন ছাড়াই জেলে রয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত’ আচরণে সতর্ক ভারত, তাই ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর চায়নি দিল্লি 

আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থার দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে মারা গিয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ স্থির করা যায়নি। এলেন পিয়ারসনের বক্তব্য, অভিযোগ গঠনের আগেই বয়স্ক বন্দিদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের সরকারের উচিত কারাগারে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করা এবং কোনও অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘদিন মানুষকে আটকে রাখা বন্ধ করা।