সেঞ্চুরি করেই বাঁ হাতের ট্যাটু দেখালেন তিনি। জানতেন টিভি ক্যামেরা তাঁকেই ফোকাস করবেন, তাই সবার আগে দেখালেন বাঁ হাতের বাইসেপসে লেখা ট্যাটু-টাই।
হিন্দি অক্ষরে কী লেখা সেই ট্যাটুতে? ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’।
কিন্তু কেন এমন সেলিব্রেশন? ধ্রুব জুরেলের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির পর থেকেই ক্রিকেটমহলে ঘুরছিল এই প্রশ্ন। এ বার নিজেই সেই রহস্য উন্মোচন করলেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। জানালেন, তাঁর এই সেলিব্রেশন আসলে পরিবারের শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা। কারণ, তাঁর দাদু ছিলেন কৃষক এবং বাবা দেশের এক সৈন্য। তাই এই সেঞ্চুরি এ ভাবে তাঁদেরই উৎসর্গ করলেন ধ্রুব।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৭৭ বলে অপরাজিত ১১৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন জুরেল। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে তাঁর ব্যাটেই ভর করে ভারত ৫০৩/৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ১৭১ বলে শতরান পূর্ণ করার পরই বাঁ হাতের বাইসেপের ট্যাটু দেখিয়ে ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’ বার্তা দেন তিনি। মুহূর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
দিনের খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে স্বাভাবিক ভাবেই ওঠে সেই প্রশ্ন। কেন এই ট্যাটু আর কেনই সেঞ্চুরির পর তা জনসমক্ষে আনলেন তিনি। ধ্রুব জুরেল বলেন, ‘আমার দাদু ছিলেন কৃষক এবং বাবা ছিলেন সেনা। আমি আমার শিকড় ভুলতে চাই না। তাই সেঞ্চুরির মুহূর্তে এই উদ্যাপন তাঁদের জন্যই’। নিজের টেস্ট জীবনে তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মা-বাবাকেও উৎসর্গ করেছেন তিনি। জুরেলের কথায়, ‘ক্রিকেটার হওয়ার পথে আমার বাবা-মায়ের অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে। সে জন্যই এই সন্মান তাঁদের প্রাপ্য’।
বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েক বার খেলা বন্ধ হলেও মনসংযোগ হারাননি জুরেল। সেঞ্চুরি হয়ে যাওয়ার পর বরং আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। অসিথা ফার্নান্দোর ওভারে পর পর দু’টি ছয়ও মারেন তিনি। তার পরেই ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল ইনিংস ঘোষণা করে দেন।
এই ইনিংসে জুরেলের পাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিলেন ঋষভ পন্থ। সপ্তম উইকেটে দু’জনে ১১২ রান যোগ করেন। আগের দিন হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন পন্থ। দ্বিতীয় দিন ফের ব্যাট করতে নেমে ৬৩ রান করেন তিনি। তবে উইকেটকিপিং করেননি। জুরেল জানান, পন্থের কাঁধে ব্যথা থাকায় তিনিই গ্লাভস হাতে নেন।
পন্থ সম্পর্কে জুরেলের প্রশংসাও কম নয়। তিনি বলেন, ‘ঋষভের খেলার ধরন একেবারেই আলাদা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কী ভাবে বোলারকে আক্রমণ করতে হয়, তা জানতে আমি প্রায়ই ওর পরামর্শ নিই। একই দলের হয়ে খেলি। তাই একে অপরের সাফল্যে খুশি হই আমরা’।
তবে নিজের সেঞ্চুরি নিয়েও অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ জুরেল। তাঁর বার্তা, ‘ভারতের হয়ে খেললে একটা চাপ, একটা উত্তেজনা থাকেই। আজ একশো করেছি, কিন্তু কাল আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে’।
কলম্বোয় তাঁর ১১৫ রানের ইনিংস শুধু ভারতকে বড় রান পৌঁছে দেয়নি, সামনে এনেছে জুরেলের ব্যক্তিগত গর্বের কাহিনীও। ব্যাট হাতে সাফল্যের পর ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’ বার্তায় নিজের পরিবার, শিকড় এবং তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করলেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই তরুণ তারকা। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে এক অন্য ধারণা তৈরি করে দিল তাঁর এই মানসিকতা।




