• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 24 August, 2026

ব্যাটের পর বল হাতেও অনবদ্য! শাহবাজের দাপটে দলীপে ইনিংস জয় দেখছে পূর্বাঞ্চল

এই ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিংয়েও ছিল একাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান। শাহবাজের ১৬৭-র পাশাপাশি বাংলার আরেক ব্যাটার সুদীপ ঘরামি

ব্যাটের পর বল হাতেও অনবদ্য! শাহবাজের দাপটে দলীপে ইনিংস জয় দেখছে পূর্বাঞ্চল

Shahbaz Ahmed Photo-SNS

ব্যাট হাতে তাঁর সেঞ্চুরি আগেই এসেছিল। সোমবার আরও বড় রান করলেন বাংলার অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও ঝড় তুললেন। তাঁর কেরিয়ারের সেরা ১৬৭ রানের ইনিংস এবং ৩ উইকেটের দাপটে দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ফলো-অন করাল পূর্বাঞ্চল। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই কার্যত জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেন শাহবাজরা।

আগের দিন সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন শাহবাজ। সোমবার সেই ১০০ থেকেই শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ২৪৪ বলে ১৬৭ রান করে আউট হন তিনি। ইনিংসে ছিল ১৭টি চার এবং চারটি বিশাল ওভার বাউন্ডারি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই শাহবাজের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। তাঁর দুরন্ত ইনিংসের সৌজন্যে পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৬৭ রান।

শাহবাজের এই ইনিংসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর লড়াই। সপ্তম উইকেটে অনুকূল রায়ের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। অনুকূল করেন ৩৭। শেষ পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের শেষ ব্যাটার হিসাবে আউট হন শাহবাজ। তাঁর ১৬৭-ই হয়ে ওঠে ইনিংসের মেরুদণ্ড।

তার পরই বল হাতে ম্যাজিক দেখানো শুরু করেন শাহবাজ। বাঁ হাতের স্পিনে ২০ রান দিয়ে তুলে নেন তিনটি উইকেট। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন ত্রিপুরার পেসার অভিজিৎ সরকার। মাত্র ২০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে উত্তর-পূর্বের ব্যাটিং লাইন-আপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি।

পূর্বের ৪৬৭ রানের জবাবে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় উত্তর-পূর্ব। শুরুতে অবশ্য ৭২/২ পর্যন্ত ভালই এগিয়েছিল তারা। কিন্তু তার পরই বিপর্যয়। মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে পড়ে যায় শেষ আট উইকেট। ওপেনার অর্পিত ভাটেওয়ারা ৩২ এবং রংশেন জোনাথন ২১ রান করেন। আর ছয় ব্যাটার দুই অঙ্কেও পৌঁছতে পারেননি। তিন জন তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

 

এমন দূর্বল প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়েও অবশ্য একটিও উইকেট পাননি মহম্মদ শামি। ন’ওভার বোলিং করেন তিনি। এর মধ্যে ৩৬ রান দেন। না পেয়েছেন একটি উইকেট, না কোনো মেডেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যাটাররা সবচেয়ে বেশি রান তোলেন শামির বলেই। যে উইকেটে ও যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিজিৎ সরকার মাত্র ২০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন, সেখানে শামির এমন নির্বিষ বোলিং কেন, এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ভারতের হয়ে খেলা মুকেশ কুমার তাও ন’রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু শামির এই নিষ্ফলা বোলিং তাঁর ভবিষ্যতের পক্ষে খারাপ।

প্রতিপক্ষকে ১১১ রানে অলআউট করার পর ফলো-অন করায় পূর্বাঞ্চল। দিনের শেষে উত্তর-পূর্ব দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/০। ইনিংস হার এড়াতে এখনও তাদের প্রয়োজন ৩৪২ রান। অর্থাৎ, তৃতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে শাহবাজদের সামনে। অবশ্য আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত কতটা সঙ্গ দেয়, সেটাই এখন দেখার।

এই ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিংয়েও ছিল একাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান। শাহবাজের ১৬৭-র পাশাপাশি বাংলার আরেক ব্যাটার সুদীপ ঘরামি করেন ১৪৬ রান এবং কুমার কুশাগ্র করেন ৫৫। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৪৬৭—তার পর প্রতিপক্ষকে ১১১-এ গুটিয়ে ফলো-অন। দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে পূর্বের দলের দাপট এখন স্পষ্ট।

ভারতীয় দলের বাইরে থাকা শাহবাজের জন্যও এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাট হাতে কেরিয়ারের সেরা ইনিংস, বল হাতে তিন উইকেট—এক ম্যাচেই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে নির্বাচকদের দরজায় ফের এক বার কড়া নাড়া শুরু করলেন তিনি।