• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 29 June, 2026

রোগ সারাতে ‘সান থেরাপি’কে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্রিটেনের চিকিৎসকরা

ভিটামিন ডি-র ওষুধ আবিষ্কারের আগে চিকিৎসকেরা রোগীদের নিয়মিত রোদে থাকার পরামর্শ দিতেন

রোগ সারাতে ‘সান থেরাপি’কে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্রিটেনের চিকিৎসকরা

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ব্রিটেনের একটি হাসপাতালের এক ব্যতিক্রমী ভিডিও। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা এক আশঙ্কাজনক রোগীকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের ছাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ সময় কাটানো এবং শরীরে সূর্যের আলো লাগানো। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় জোর আলোচনা। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে একজন মুমূর্ষু রোগীকে রোদ্দুরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কী?

চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বহু পুরনো অথচ বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত এক ধারণা। সেটা হল প্রাকৃতিক আলো এবং খোলা হাওয়া রোগীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘সান থেরাপি’ বা সূর্যালোকের চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত পরিচিত বিষয়। ভিটামিন ডি-র ওষুধ আবিষ্কারের আগে চিকিৎসকেরা রোগীদের নিয়মিত রোদে থাকার পরামর্শ দিতেন।

শুধু ভারত নয়, গোটা ইউরোপের বহু হাসপাতাল এমনভাবে নির্মাণ করা হতো যাতে রোগীরা খোলা বারান্দা, উন্মুক্ত ওয়ার্ড কিংবা রোদে বসার বিশেষ ছাদে সময় কাটাতে পারেন। এই প্রসঙ্গে ব্রিটেনের লিডস শহরের একটি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি এক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে নিয়মিত বাইরে রোদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের দাবি, প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে আসার পর রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক শক্তিও ফিরে আসতে শুরু করে।

যদিও এটি ছিল সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থারই একটি অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে, যা হাড়, পেশি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ ক্রমশ ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও সেডেন্টারি লাইফস্টাইলের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পান না। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন কিছুটা সময় খোলা আকাশের নিচে কাটানো শুধু শরীর নয়, মনকেও সুস্থ রাখে। তাই ভাইরাল সেই ভিডিও কেবল আবেগঘন মুহূর্ত নয়, বরং মনে করিয়ে দেয় এক চিরন্তন সত্য। সেটা হল কখনও কখনও প্রকৃতির সহজ স্পর্শও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।