নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কোয়্যারে প্রকাশ্যে ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, সেই হামলার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের। ওই হামলাতেই ৬৮ বছরের এক বৃদ্ধও গুরুতর জখম হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত হামলাকারী ৪৯ বছরের পামেলা সিসনেরোসেরও।
কাজে ফেরার প্রথম দিনই মৃত্যু। পাঁচ মাসের সন্তানকে বাড়িতে রেখে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরেছিলেন ৩২ বছরের এরিন পিয়াসেন্তি। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলে পর্যটক এবং স্থানীয়দের ভিড়ে ঠাসা টাইমস স্কোয়্যারে আচমকাই ছুরি নিয়ে হামলা চালান পামেলা। প্রথমে তিনি ৬৮ বছরের এক ব্যক্তির পেটে ছুরি মারেন। এরপরেই তাঁর নিশানা হন এরিন।
একের পর এক ছুরির কোপে গুরুতর জখম হন ওই ব্যাঙ্ক আধিকারিক। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউ ইয়র্ক পুলিশ। পামেলাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পুলিশ প্রথমে স্টান গান ব্যবহার করে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করে। তাতেও কাজ না হওয়ায় তখন গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পামেলার।
পুলিশ জানিয়েছে, পামেলা কুইন্সের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন সন্তানের মা পামেলা। আগে তাঁকে কখনও এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেথা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে এই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনও যোগ পাওয়া যায়নি। কেন আচমকা তিনি ছুরি নিয়ে হামলা চালালেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এরিন ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটি অফিসে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস’ পদে কর্মরত ছিলেন। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এরিন ফোর্ডহাম ল’ স্কুল থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াসেন্তিও একই সময়ে ওই আইন স্কুল থেকে স্নাতক হন। ঘটনার মাত্র ৪ দিন আগে সমাজমাধ্যমে স্বামী ও পাঁচ মাসের মেয়েকে নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন এরিন।
আরও পড়ুন: ইস্তানবুলের কাছে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, নিখোঁজ ১০ নাবিক
দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কাজে ফেরার পরই এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকস্তব্ধ তাঁর সহকর্মীরা। ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, এরিনের মৃত্যুতে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত। টাইমস স্কোয়্যারের মতো জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হামলা হিসাবেই দেখছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।




