• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 2 September, 2026

সরকারি হাসপাতালে ছানি অপারেশনের পরে দৃষ্টিহীন, ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাইকোর্টের

কলকাতা পুরসভার ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ওই হাসপাতালে ওই ঘটনার পর থেকে রোগীরা চোখের চিকিৎসার জন্যে যাওয়া বন্ধ করে দেন। স্বাস্থ্য দপ্তর বিভাগীয় তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ পায় এবং অপারেশনে ব্যবহৃত চিকিৎসা–সামগ্রী যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করার ফলেই এমন ঘটনা বলে রিপোর্ট জমা পড়ে।

সরকারি হাসপাতালে ছানি অপারেশনের পরে দৃষ্টিহীন, ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাইকোর্টের

Photo: সরকারি হাসপাতালে ছানি অপারেশনের পরে দৃষ্টিহীন (AI)

গার্ডেনরিচের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ছানি অপারেশন করানোর পরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজ্যকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আবেদনকারীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বিবেচনা করে রাজ্যের উচিত এককালীন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

গার্ডেনরিচের মেটিয়াবুরুজে ওই সরকারি হাসপাতালে ২০২৪ সালের জুন মাসে ছানি অপারেশন ক্যাম্পে যোগ দেন এলাকার বহু মানুষ। কিন্তু অপারেশনের পরেই অনেকে অভিযোগ করেন তাঁরা আর দেখতে পাচ্ছেন না। প্রথমে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা হয়। পরে তাঁরা নিজেরাও অন্যত্র চেষ্টা করেন। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি না ফেরায় ভুক্তভোগীদের একজন গোবিন্দচন্দ্র দেবনাথ হাইকোর্টে মামলা করেন।

সেই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই ক্যাম্পে অপারেশনের পরে তাঁর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চেয়ে ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মামলা করা হয়। গার্ডেনরিচে ওই ক্যাম্পে অপারেশন করিয়ে আরও অনেকেরই যে চোখের ক্ষতি হয়েছে তাও আদালতে জানানো হয়। সরকারি হাসপাতালে ছানি অপারেশনের পরে এমন অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসে রাজ্য। হস্তক্ষেপ করে স্বাস্থ্যভবন।

কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে ১৬ জনকে রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজিতে ভর্তি করানো হয়। কলকাতা পুরসভার ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ওই হাসপাতালে ওই ঘটনার পর থেকে রোগীরা চোখের চিকিৎসার জন্যে যাওয়া বন্ধ করে দেন। স্বাস্থ্য দপ্তর বিভাগীয় তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ পায় এবং অপারেশনে ব্যবহৃত চিকিৎসা–সামগ্রী যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করার ফলেই এমন ঘটনা বলে রিপোর্ট জমা পড়ে। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও অন্ধকারেই ক্ষতিগ্রস্তরা।

কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চ রাজ্যকে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কোনও নির্দেশ সিঙ্গল বেঞ্চ না দেওয়ায় ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন গোবিন্দচন্দ্র। গাফিলতির ফলে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী ঝুমা সেন।

আরও পড়ুন: ‘তিন দিন নয়, এক দিনেই ধর্না!’ এসআইআর ইস্যুতে হাইকোর্টের পরামর্শে অস্বস্তি বাড়ল সিদ্দিকুল্লাহদের

আদালত তারপরেই নির্দেশে জানায়, যেহেতু রাজ্য-আয়োজিত চক্ষু শিবিরে অপারেশনের পরে দৃষ্টিশক্তি হারানোয় আবেদনকারীর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তাই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্দিষ্ট করে আদালতে জানানোর বলেছিল। সেই মোতাবেক আদালতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজ্য সরকার। এখন প্রশ্ন ওই ঘটনায় আর যাঁদের চোখের ক্ষতি হয়েছে, তাঁরাও কি নতুন করে মামলা করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন?