ভেনেজুয়েলায় বুধবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে বহু বাড়ি ও অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডগ্রিজ দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মোরন শহরের পশ্চিমাঞ্চলে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২২ কিলোমিটার গভীরে।
প্রথম কম্পনের মাত্র ১ মিনিট পরেই দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৫। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে, মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষের মধ্যে পৌঁছতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির মধ্যে এই দু’টি অন্যতম। উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
ভেনেজুয়েলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্যারিবিয়ান সমুদ্র তীরবর্তী বন্দরশহর লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাবাসের উত্তরাংশে। বন্ধ রাখা হয়েছে ভেনেজুয়েলার মূল বিমানবন্দরটি। ইতিমধ্যেই সে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। আতঙ্কে কারাবাস এবং শহরতলির বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। স্কুল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুলগুলিতে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহার করছে প্রশাসন। আমেরিকা এবং মেক্সিকো ছাড়াও দুঃসমেয় ভেনেজুয়েলাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল, পর্তুগাল, কাতার এবং কানাডা। উদ্ধারকাজে ভেনেজুয়েলার সেনাকে সাহায্য করছে আমেরিকার দু’টি উদ্ধারকারী দল। ইলন মাস্ক বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আগামী এক মাস ভেনেজুয়েলায় বিনামূল্য ‘স্টারলিঙ্ক’ ইন্টারনেট পরিষেবা দেবে।
ভারতের খ্যাতনামা বালুকাশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়েক বৃহস্পতিবার পুরীর সমুদ্রসৈকতে ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি জানিয়ে একটি বিশেষ বালুকাশিল্প তৈরি করেছেন। তিনি এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে দুর্গতদের জন্য প্রার্থনা ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরেন।




