• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুইয়ে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচগুলি কবে, কোথায়, কখন? বিস্তারিত জেনে নিন

এশিয়ার দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গল নবম বার অংশ নিতে চলেছে। ২০১৫-র পরে প্রথম বার এই পর্যায়ে ফিরছে

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুইয়ে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচগুলি কবে, কোথায়, কখন? বিস্তারিত জেনে নিন

East Bengal Photo-SNS

কুয়েতের আল আরাবির বিরুদ্ধে অসাধারণ জয়ের পর এ বার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গল এফসি-র কঠিন লড়াই।

জর্ডনের আল হুসেইন, ইরাকের আল শোর্তা এবং ওমানের আল সিব— এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে এই তিন পশ্চিম এশীয় ক্লাবের সঙ্গে লড়তে হবে লাল-হলুদকে। তিন প্রতিপক্ষের মধ্যেই রয়েছে নিজেদের দেশের সাম্প্রতিক লিগের সেরা ফুটবলাররা। ফলে এশিয়ার দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গলের সামনে যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, তা বলাই যায়।

মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে হওয়া ড্র-তে গ্রুপ ডি-তে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। গত সপ্তাহে প্রিলিমিনারি স্টেজে কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছিল লাল-হলুদ। এ বার তাদের সামনে জর্ডনের লিগ চ্যাম্পিয়ন আল হুসেন, ইরাকের লিগের রানার্স আল শোর্তা এবং ওমানের লিগজয়ী আল সিব। অর্থাৎ, গ্রুপের প্রতিটি প্রতিপক্ষই নিজেদের দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী দল।

সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে। জর্ডনের প্রো লিগের ২০২৫-২৬ মরসুমের চ্যাম্পিয়ন তারা। পশ্চিম এশিয়ার ফুটবলে জর্ডনের ক্লাবগুলির শক্তি বরাবরই ভারতীয় দলগুলির কাছে চ্যালেঞ্জের। তার উপর চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠ ও অ্যাওয়ে— দু’জায়গাতেই খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে।

আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের অভিযান শুরু করবে ইস্টবেঙ্গল। ১৬ সেপ্টেম্বর এই ম্যাচটি হবে আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। জর্ডনের এই ক্লাবের বিরুদ্ধে হোম ম্যাচ হবে ২৪ নভেম্বর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।

ইরাকের আল শোর্তাও কম শক্তিশালী দল নয়। ২০২৫-২৬ ইরাক স্টারস লিগে রানার্স হয়েছে তারা। ইরাকি ফুটবলের শারীরিক শক্তি এবং দ্রুত গতির খেলার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও ইস্টবেঙ্গলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

আল শোর্তার বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল প্রথমে হোম ম্যাচ খেলবে ১৩ অক্টোবর এবং অ্যাওয়ে ম্যাচটি হবে ৮ ডিসেম্বর, বাগদাদের আল জাওরা স্টেডিয়ামে।

তৃতীয় প্রতিপক্ষ ওমানের আল সিব। তারাও ২০২৫-২৬ মরসুমে ওমান প্রফেশনাল লিগের চ্যাম্পিয়ন। ফলে কাগজে-কলমে চার দলের গ্রুপ হলেও, ইস্টবেঙ্গলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ বলে কাউকেই আলাদা করে চিহ্নিত করার উপায় নেই।

আল সিবের বিরুদ্ধে প্রথমে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাবে লাল-হলুদ বাহিনী। ২৭ অক্টোবর সেই ম্যাচটি হবে আল সিব শহরের আল সিব স্টেডিয়ামে। তার এক সপ্তাহ পরেই আল সিব আসবে কলকাতায়, ৩ নভেম্বরে তাদের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে। অর্থাৎ, ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচগুলি হবে ১৩ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর ও ২৪ নভেম্বরে।

গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে ঘরে ও বাইরে দু’বার করে খেলবে। অর্থাৎ, ইস্টবেঙ্গলের সামনে মোট ছ’টি ম্যাচ। গ্রুপের প্রথম দু’টি দল ১৬ দলের রাউন্ডে যাবে।

এশিয়ার দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গল নবম বার অংশ নিতে চলেছে। ২০১৫-র পরে প্রথম বার এই পর্যায়ে ফিরছে লাল-হলুদ বাহিনী। তবে সে সময় প্রতিযোগিতাটির নাম ছিল এএফসি কাপ। এ বার নতুন নাম, নতুন ফরম্যাট আর নতুন চ্যালেঞ্জ।

আল আরাবির বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের জয়ের পর ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিয়েছে, এশিয়ার মঞ্চে লড়াই করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। কিন্তু গ্রুপ পর্বের লড়াই এক ম্যাচের নয়, দীর্ঘ পরীক্ষার। জর্ডন, ইরাক এবং ওমানের সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে খুলবে নকআউটের দরজা।

এ বার তাই লাল-হলুদের সামনে প্রশ্ন একটাই— পশ্চিম এশিয়ার তিন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বাধা টপকে কি এশিয়ার মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে ইস্টবেঙ্গল?

 

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ ইস্টবেঙ্গলের সূচি:

 

১৬ সেপ্টেম্বর- বনাম আল হুসেইন (আম্মান, রাত ৯.৩০)

১৩ অক্টোবর- বনাম আল শোর্তা (কলকাতা, সন্ধ্যা ৭.১৫)

২৭ অক্টোবর- বনাম আল সিব (সিব, রাত ৯.৩০)

৩ নভেম্বর- বনাম আল সিব (কলকাতা, সন্ধ্যা ৭.১৫)

২৪ নভেম্বর- বনাম আল হুসেইন (কলকাতা, সন্ধ্যা ৭.১৫)

৮ ডিসেম্বর- বনাম আল শোর্তা (বাগদাদ, রাত ৯.৩০)