কলকাতা লিগ হোক বা আইএফএ শিল্ড—তরুণদের উপরেই যেন ক্রমশ ভরসা বাড়ছে ইস্টবেঙ্গলের। বৃহস্পতিবার শিল্ডের প্রথম ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হল না। সিনিয়র ও রিজার্ভ দলের ফুটবলারদের নিয়ে গলা দল নিয়ে ক্যালকাটা কাস্টমসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করল লাল-হলুদ। কোচের দায়িত্বে ছিলেন বিনো জর্জ। ইস্টবেঙ্গলে এদিন কোনও বিদেশি ফুটবলারকে দলে রাখা হয়নি। বৃষ্টিভেজা ইস্টবেঙ্গল মাঠে শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি লাল-হলুদের। ১২ মিনিটে রিকি ঘরামির গোলে এগিয়ে যায় কাস্টমস। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে বরিস সিং, মনোতোষ চাকলাদার ও নরেন্দ্র গেহলতকে কাটিয়ে গোল করেন রিকি। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। এই ম্যাচে একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন জেসিন টি কে। তবে গোলরক্ষক গৌরব শ-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ নজর কেড়েছে। ২৯ মিনিটে বরিস সিংয়ের কর্নার থেকে হেডে সমতা ফেরান রোহিত কুমার। বিরতির আগে নরেন্দ্রর হেড পোস্টে প্রতিহত হওয়ায় ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যেতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রম প্রধানের পরিবর্তে জয় বাজকে নামান কোচ বিনো। তার পরেই বদলে যায় ছবিটা। দুই প্রান্তে বিজয় মুর্মু ও আকাশ হেমব্রমের গতি কাজে লাগিয়ে চাপ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ৫২ মিনিটে আকাশের পাস থেকেই রোহিত দানুর গোলে এগিয়ে যায় তারা। শেষ দিকে বেলালের পাস থেকে পাওয়া বলে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আকাশ দলের তৃতীয় গোলটি করেন।
ম্যাচ শেষে কোচ বিনো জর্জ জানান, মাত্র দু’দিন একসঙ্গে অনুশীলন করায় প্রথমার্ধে বোঝাপড়ার অভাব ছিল। বিরতিতে ভুলগুলি শুধরে নেওয়ার পর ম্যাচের গতি বদলে যায়। জেসিনের সুযোগ নষ্ট নিয়েও বিশেষ চিন্তিত নন তিনি। চোট কাটিয়ে সদ্য মাঠে ফিরেছেন জেসিন। ছন্দে ফিরতে কিছু সময় লাগবে। কোচ আরও বলেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দল ঘুরে দাঁড়াবে।
কলকাতা লিগের পর শিল্ডের প্রথম ম্যাচেও বেশ নজর কাড়লেন আকাশ হেমব্রম। কাস্টমসের বিরুদ্ধে গোলও পেয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে আকাশের প্রশংসা করে বিনো বলেন, এবারে ইস্টবেঙ্গলের বড় প্রাপ্তি আকাশ হেমব্রম। আকাশের খেলার মধ্যে এমন কিছু গুণ আছে যা প্রধান কোচ হাবাসের নজরে এসেছে। তাই আশা করা যেতে পারে আইএসএল ফুটবলে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে আকাশ মাঠে নামবে।
অন্যদিকে, ম্যাচ হারলেও খেলোয়াড়দের প্রশংসা শোনা গেল কাস্টমসের কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের মুখে। তিনি বলেন, মাত্র একদিনের অনুশীলনে দল যথেষ্ট ভালো ফুটবল খেলেছে। কলকাতা লিগ শেষে দীর্ঘদিন দলের অনুশীলন বন্ধ ছিল। শেষ মুহূর্তে আইএফএ-র কর্মকর্তাদের অনুরোধে তাঁরা ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্ট খেলতে নামে। যদিও, কোচ বিশ্বজিৎ আশাবাদী পরের পাঞ্জাব ম্যাচে দলের খেলায় আরও উন্নতি দেখা যাবে।




