• facebook
  • twitter
Friday, 2 January, 2026

সন্তোষ ট্রফি ফুটবলের গুরুত্ব হারিয়ে গিয়েছে: মহম্মদ আমজাদ

পরপর দু’বার সন্তোষ ট্রফির ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছে গেল তামিলনাড়ু দল। তামিলনাড়ু টিম সম্পর্কে প্রাক্তন ফুটবলার ও নির্বাচক মহম্মদ আমজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রণজিৎ দাস।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

প্রশ্ন : সন্তোষ ট্রফির প্রাথমিক পর্বে আপনার দল কেমন খেললো?

আমজাদ: গ্রুপ থেকে একটা দলের ফাইনাল রাউন্ডে খেলার সুযোগ ছিল। তাই সর্তক থেকে খেলতে হয়েছে। তবে, টিম ভালো খেলেছে। গত মরসুমের লড়াই আরো কঠিন ছিল। গ্রুপে কর্নাটক আমাদের দিকে ছিল। ওরা চ্যাম্পিয়ান দল। দ্বিতীয় ম্যাচেই ওদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেই কর্নাটককে হারিয়েই ফাইনালে রাউন্ডে উঠেছিলাম।

Advertisement

প্রশ্ন : গত মরশুমের সন্তোষ ট্রফির ফাইনাল রাউন্ডে আপনাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। একটাও ম্যাচ জিততে পারলে না কেন?

Advertisement

আমজাদ: ফাইনাল রাউন্ডে আমরা গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের স্ট্রাইকার লিজো কে চোট পেয়ে গেল। ফাইনাল রাউন্ডে খেলতে পারলো না। শেষ ৪টে ম্যাচে আমরা মাত্র ২টো গোল করতে পেরেছিলাম। শেষ ম্যাচে কেরলের বিরুদ্ধে জিততে পারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ম্যাচটা ড্র হয়ে গেল।

প্রশ্ন : এই মরশসুমের সন্তোষ ট্রফির টিম গত মরশসুমের তুলনায় কতটা শক্তিশালী?

আমজাদ: আমাদের জুনিয়ার ফুটবলার বেশি আছে। গোলকিপার মোহনরাজ কে, ভারতীয় অনূর্ধ-২৩ দলের হয়ে খেলেছে। রক্ষণের কার্তিক তিরুমুরলি তরুণ ফুটবলার। প্রাথমিক পর্বে খুব ভালো খেলেছে। এছাড়া রোমারিও, মায়াকানান, শ্রীনিবাসরা আছে। রোমারিওদের অভিজ্ঞতা ও জুনিয়ার ফুটবলারদের ভালো খেলার ইচ্ছা— এভাবেই টিম হয়েছে। এবার গ্রুপ পর্যায়ে কঠিন লড়াই সে অর্থে ছিল না। ফাইনাল রাউন্ডে সব ভালো দল থাকবে। কঠিন লড়াই করেই জিততে হবে।

প্রশ্ন: এস দেবাদত গ্রুপ পর্যায়ে আপনার টিমে প্রতি ম্যাচেই গোল করছে। কলকাতা লিগে ছেলেটি নজর না কাড়লেও সন্তোষ ট্রফিতে এবার ভালো খেললো।

আমজাদ: গত সন্তোষ ট্রফির ফাইনাল রাউন্ডে দেবাদত খেলেছিল। লিজো চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে যেতে দেবাদত দলে আসে। ছেলেটির মধ্যে লড়াই আছে। কিন্তু প্রথম টাচটা ওর গণ্ডগোল হয়ে যাচ্ছে। ফাঁকা গোল পেয়েও ঘাবড়ে যায়। আমি স্ট্রাইকার ছিলাম। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ওকে বোঝাচ্ছি। এবছর প্রাথমিক রাউন্ড থেকে খেলছে। গোলের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। তবে ওকে আরো উন্নতি করতে হবে। বয়স কম আছে। চাকরি পেয়ে গিয়েছে। খেলার খিদেও আছে। চোট নিয়ে সর্তক থাকলে আরো অনেকদূর যাবে।

প্রশ্ন : আপনাদের সময়ের সন্তোষ ট্রফি ও বর্তমান সন্তোষ ট্রফির মধ্যে গুণগত কি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে?

আমজাদ: অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আমাদের সময় দেশের সেরা ফুটবলাররা সন্তোষ ট্রফিতে খেলতো। এখন দেশের সেরা ফুটবলাররা আইএসএল ও আইলিগে খেলছে। সন্তোষ ট্রফিতে খেলে না। আইএসএল ও আইলিগের এবার খেলা হচ্ছে না। এই সুযোগে কিছু ফুটবলারকে প্রাথমিক পর্বে পাওয়া গিয়েছে। ফাইনাল রাউন্ডে কী হবে জানি না। তবে আমাদের সময়ের খেলার স্টাইল থেকে এখন সিস্টেমের অনেক বদলে গিয়েছে। ছেলেরা ভালো মানসিকতা দেখাতে পারলে, অনেক ভালো ক্লাবে সুযোগ পেতে পারে। এই সুযোগগুলো আমাদের সময় ছিল না।

প্রশ্ন : এখনকার ফুটবলারদের জন্য, আপনার অভিজ্ঞতায় কোন বিষয়ে জোর দিতে বলছেন?

আমজাদ: আমাদের সময় প্রতিযোগিতা খুব কঠিন ছিল। ভালো খেললেই তবে দলে জায়গা পাওয়া যেত। ভালো খেললেই চাকরি ও ভালো টাকা পাওয়ার সুযোগ মিলতো। নচেৎ চুক্তি মত টাকাই পাওয়া যেত না। এখনতো ফিফার গাইডলাইন আছে। খেলার সুযোগ না পেলেও চুক্তির পুরো টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া এজেন্ট আছে। ওদের সাহায্যে মোটা টাকা যেমন পাওয়া যায়, তেমন খেলার সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের সময় লড়াই করেই টিমে ঢুকতে হতো। তাই আমাদের সময় নিয়মিত খেলতে পারলে সম্মান পাওয়া যেত। চাকরির সুযোগ ছিল। আমাদের সময় ব্যাঙ্কের টিমগুলো কত শক্তিশালী ছিল। ভাস্কর গাঙ্গুলি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য— কত নামী নামী বাঙালি ফুটবলার এমন চাকরি করতেন। অমলরাজ, ফরিদ এবং আমি— একসঙ্গে মহামেডান টিমে খেলেছিলাম। ফুটবল খেলেই চাকরি পেয়েছি। শিশির ঘোষের সঙ্গে ইন্ডিয়া টিমে খেলেছি। লড়াই করেই এসব সুযোগ এসেছে। এখনকার ফুটবলাররা খুব সহজেই অনেক টাকা পেয়ে যাচ্ছে। খেলে টাকা পাচ্ছে, ঠিক আছে—তবে, মানসিকতা ঠিক রাখতে হবে। যারা ফুটবলকে ভালোবাসতে পারবে। তাদের উন্নতি হবে। নিজেদের লক্ষ্য পূরণ হবে।

প্রশ্ন : ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান ডামাডোলে দেশের ফুটবল কতটা পিছিয়ে পড়ছে?

আমজাদ: বিভিন্ন রাজ্যের ফুটবল এগোলে, ভারতীয় ফুটবল এগোবে। আমাদের তামিলনাড়ুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলছে। এতে ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে। এতে কি শুধু আমাদের রাজ্যের ক্ষতি হচ্ছে? দেশের ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে না? দেশে জাতীয় লিগ শুরু হলো। তারপর আরও উন্নতির জন্য আইলিগ শুরু হলো। এরপর ১০ বছর ধরে আইএসএল চললো। এই দীর্ঘসময়ের ফুটবলে নিশ্চয়ই কিছু পরিবর্তন এসেছে। এই সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবর্তন ও দেশের ফুটবলের মান নিয়ে আলোচনা দরকার। আমাকেও কোচিংয়ে এসে বি-লাইসেন্স ডিগ্রি করতে হয়েছে। অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি। এভাবে শিখতে শিখতেই আমারা এগোচ্ছি। আমাদের রাজ্যে এখন প্রচুর অ্যাকাডেমি হয়েছে। আরো নতুন নতুন অ্যাকাডেমি হচ্ছে। খুব কম বয়স থেকে ছেলেরা ফুটবল শিখছে। এভাবেই একদিন ভালো ফুটবলার উঠে আসবে ও ভালো রেজাল্ট আসবে। টেকনিক্যাল ও প্র্যাক্টিক্যাল ও মানসিক দৃঢ়তায় নিজেদের সঠিক ভাবনায় তৈরি করতে হবে। এই সুবিধাগুলো অ্যাকাডেমি থেকে পাওয়া যাচ্ছে। আগামীদিনের জন্য আশাবাদী হওয়া যাবে। তবে স্থানীয় ফুটবল সংস্থাকে আরও সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ মানসিকতা নিয়ে সংস্থা পরিচালনা করতে হবে। তাদের জন্য যেন ফুটবলের ক্ষতি না হয়। তবে দেশের ফুটবলের ক্ষতি হবে না।

Advertisement