রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে জঙ্গলমহলে জল্পনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন। সোমবার সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কুড়মি সমাজের একাংশ। গত অক্টোবরে পুরুলিয়ার শিমুলিয়া ময়দানে এক সামাজিক সভা থেকে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ স্লোগান উঠেছিল। এরপর ফেব্রুয়ারিতে কোটশিলায় আয়োজিত আরেকটি সামাজিক জমায়েতেও কুড়মি সমাজ স্পষ্ট করে দেয় যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
Advertisement
এই প্রেক্ষাপটেই দিল্লির বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো, সংগঠনের সভাপতি শশাঙ্ক মাহাতো, সহ-সভাপতি সঞ্জয় কুমার মাহাতো, কার্যকরী কমিটির সদস্য শশধর মাহাতো, কমলেশ মাহাতো এবং প্রেমচাঁদ মাহাতো। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতিপ্রিয় সিং মাহাতো এবং রাজস্থানের এক সাংসদ। পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজের প্রাক্তন মুলুকদার রাজেশ মাহাতোও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
Advertisement
বৈঠকের পর অজিত মাহাতো জানান, কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুড়মিদের জনজাতির স্বীকৃতি, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ভাষার অন্তর্ভুক্তি এবং সারনা ধর্মের জন্য পৃথক কোড চালুর দাবি। তাঁর কথায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়গুলি বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিল আনার আশ্বাস মিলেছে বলেও তিনি জানান।
অজিত মাহাতো আরও ইঙ্গিত দেন, যদি এই দাবিগুলির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে আগামী নির্বাচনে তাঁরা সরাসরি বিজেপির পক্ষে মাঠে নামতে পারেন। এদিকে এই বৈঠককে ঘিরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমালোচনাও করা হয়েছে। দলের রাজ্য সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কুড়মিদের দাবির সমর্থনে কেন্দ্রের কাছে চিঠি লিখেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি রাজনীতিকে জড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি আরও বলেন, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনও সামাজিক নেতা নির্দেশ দিলেই মানুষ সেই অনুযায়ী ভোট দেবেন— এমন ধারণা ঠিক নয়।
Advertisement



