অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পরেই তা পৌঁছে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আদালতের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়ে অবশেষে সর্বসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় এনসিইআরটি। একই সঙ্গে বিতর্কিত বইটি বাজার থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংস্থাটি।
সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিইআরটি জানায়, ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড – গ্রেড ৮’ শীর্ষক সমাজবিজ্ঞান বইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা’ নামে একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংস্থার দাবি, ওই অধ্যায়টি উপযুক্ত ছিল না এবং বিষয়বস্তুর জন্য তারা নিঃশর্তভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এনসিইআরটির ডিরেক্টর সহ সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য এই ভুলের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
Advertisement
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, বিতর্কের পর বইটি সম্পূর্ণভাবে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। কোনও স্কুলে আর এই বই বিতরণ করা হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে এনসিইআরটি। যদিও বই প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবুও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে বইটির বিষয়বস্তু সংশোধনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় যে অসুবিধা তৈরি হয়েছে, তার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
Advertisement
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বইটিতে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ নিয়ে একটি আলাদা অধ্যায় রাখা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের আদালতগুলিতে বিপুল পরিমাণ মামলার জটের জন্য বিচার ব্যবস্থার ধীরগতিকে দায়ী করা হয়েছিল। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি নজরে আসে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর। আদালত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং বইটিকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে যাওয়া বইগুলিও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই অধ্যায় রচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিচারপতিদের মতে, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে এটি একটি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং এনসিইআরটির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
Advertisement



