• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 31 July, 2026

বিয়ের আগে সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক অপরাধ নয়, চাকরি বাতিলও বেআইনি: সুপ্রিম কোর্ট

অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কখনও কাউকে এভাবে দোষী বলে চিহ্নিত করা যায় না।

বিয়ের আগে সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক অপরাধ নয়, চাকরি বাতিলও বেআইনি: সুপ্রিম কোর্ট

Photo: File photo

দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে কোনওভাবেই চরিত্রগত ত্রুটির প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। এমনকী সেই সম্পর্কের জেরে কারও চাকরি বা জীবিকার সুযোগও কেড়ে নেওয়া যাবে না। এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে এই মন্তব্য করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তেলঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল পদপ্রার্থীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।

২০১৪ সালে মামলার সূত্রপাত। পুলিশ কনস্টেবল পদে নির্বাচিত এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে লোক আদালতে দুই পক্ষের সম্মতিতে মামলার নিষ্পত্তি হয়। চাকরির আবেদনপত্রে ওই যুবক সততার সঙ্গে মামলার উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু তেলঙ্গানা পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড ওই যুবকের চরিত্রকে ‘নৈতিকভাবে স্খলিত’ বলে দাবি করে নিয়োগ বাতিল করে দেয়।

তেলঙ্গানা পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন চাকরি হারানো ওই যুবক। নিম্ন আদালত থেকে মামলাটি গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত জানায়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা কখনওই আইনসম্মত নয়। আদালতের মতে, সব সম্পর্ক যে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে পরিণত হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই সম্পর্ক ভেঙে গেলেই প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে আরও বলা হয়েছে, লোক আদালতে কোনও মামলার মীমাংসা হওয়া মানেই অভিযুক্তের দোষ স্বীকার নয়। নিয়োগকারী সংস্থা শুধুমাত্র অতীতের এমন একটি মীমাংসিত মামলার ভিত্তিতে কোনও প্রার্থীকে অযোগ্য বলতে পারে না। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কখনও কাউকে এভাবে দোষী বলে চিহ্নিত করা যায় না।

আদালতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, অভিযোগকারিণী নিজেও মামলাটি আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাননি। ওই ঘটনায় আপসের ক্ষেত্রে কোনও জবরদস্তির প্রমাণও মেলেনি। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে চাকরি সংক্রান্ত বহু মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সমাজের রক্ষণশীল মানসিকতার বিরুদ্ধে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করবে।