রাজ্য মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্ন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের আইন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের হাত থেকে সেই দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আইন দপ্তর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর অধীনেই থাকবে। ফলে মলয় ঘটক আপাতত শুধুমাত্র শ্রম দপ্তরের কাজকর্মই দেখবেন।
নবান্নের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইন দপ্তর দীর্ঘ সময় ধরে মলয় ঘটকের দায়িত্বে থাকলেও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিভাগ হিসেবে আইন দপ্তরকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে আনা রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
এদিকে একই সঙ্গে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের দায়িত্বও নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে এই দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। সম্প্রতি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে সাংসদ পদ এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রীত্ব বা কোনও সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। সেই কারণেই তাঁকে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরাসরি নজরদারি রাখতেই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে আইন দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিজের তত্ত্বাবধানে রাখা প্রশাসনিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাবুল সুপ্রিয়র ক্ষেত্রে সাংসদ হিসেবে দিল্লিতে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হল।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। আপাতত নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই থাকবে। তবে খুব শীঘ্রই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
এদিকে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা, মন্ত্রীদের দায়িত্বে এই পরিবর্তনের ফলে আমলাতান্ত্রিক স্তরেও কিছু রদবদল হতে পারে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দপ্তরগুলির কাজ যাতে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং আইন—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নীতি ও সিদ্ধান্ত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই নির্ধারিত হবে।
Advertisement



