বিশ্বকাপ ফুটবলে এশিয়ার দেশগুলি বরাবর পিছিয়ে থাকলেও এই মহাদাশের যে দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল, তারা দক্ষিণ কোরিয়া। ২০০২-এ যেবার তাদের দেশে ও জাপানে বিশ্বকাপ হয়েছিল, সেবার কোরিয়ানরা শেষ চারে উঠে হেরে যায়। এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশও নিয়েছে তারাই। মোট ১২বার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা।
সেই দক্ষিণ কোরিয়া এবারের বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে ভারতীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার সকালে, চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সে সেদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা সন হিউং-মিনের কাছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধুমাত্র আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং দীর্ঘ কেরিয়ারের অন্যতম বিশেষ অধ্যায়। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে উচ্ছ্বসিত কোরিয়ান অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, তিনি নিজেকে ফের এক “তরুণের মতো” অনুভব করছেন।
৩৩ বছর বয়সী সন ২০১৪-য় প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ সংস্করণেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। এবার মাঠে নামলেই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করবেন।
বিশ্বকাপে নামার আগে সংবাদমাধ্যমকে সন বলেন, ‘আমি নিজেকে ফের তরুণের মতো অনুভব করছি। বিশ্বকাপ সবসময়ই বিশেষ কিছু। চতুর্থবার এই মঞ্চে খেলতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের’। তিনি আরও জানান, প্রতিবারের মতো এবারও দেশের জন্য সেরাটা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
দক্ষিণ কোরিয়া এবার তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ম্যাচে। গ্রুপ ‘এ’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সন এবং কোচ হং মিয়ুং-বো দুজনেই মনে করছেন, নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে প্রথম ম্যাচ থেকেই ইতিবাচক ফল পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলে গোলের খরা নিয়ে কিছু সমালোচনার মুখে পড়লেও সন এখনও দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ৫৬টি গোল রয়েছে, যা দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড থেকে মাত্র দুটি কম।
বিশ্বকাপের আগে অবসর নিয়ে নানা জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন সন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। আপাতত তাঁর লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়াকে ভাল খেলতে সাহায্য করা এবং ২০০২-এর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল অভিযানের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকরাও আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন যে, দলের অধিনায়ক সনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে এবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমক দেখাতে পারবে এশিয়ার লাল-বাহিনী।




