• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

পর্যটন নয়, সুরক্ষাই মূল অগ্রাধিকার, আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে সুন্দরবন নিয়ে শঙ্কর ঘোষের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা

মানুষ ও বাঘের সহাবস্থান এবং সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন যে, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত

পর্যটন নয়, সুরক্ষাই মূল অগ্রাধিকার, আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে সুন্দরবন নিয়ে শঙ্কর ঘোষের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা

Minister Shankar Ghosh Photo-SNS

দার্জিলিংয়ের পর সুন্দরবনকে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চকে আয়োজিত ম্যানগ্রোভ দিবসের অনুষ্ঠানে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও ‘ব্লু-কার্বন’ অর্থনীতির বিকাশের একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করা হয়।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমকে মূল ভিত্তি করে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সড়ক ও জলপথের আধুনিকীকরণ এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে স্যাটেলাইট ম্যাপ ও হেল্পলাইন সংবলিত বিশেষ ডিজিটাল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তবে পর্যটনের এই বিপুল সম্ভাবনার মাঝেই আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে বাঘ সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণীর অধিকার রক্ষা নিয়ে এক অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল বার্তা দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।

সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে পর্যটন ও বাঘ সংরক্ষণের দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রথমত, সুন্দরবনের অন্যতম মূল আকর্ষণ হচ্ছে বাঘ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটনের মধ্যে বাঘের বিষয় থাকবে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ভালো লাগার জায়গা থেকে বলতে পারি যে, বন্যপ্রাণীদেরকে পর্যটনের অংশ হিসেবে দেখানো এবং বাঘের মতন এনডেঞ্জার্ড স্পিসিসকে সংরক্ষিত করে রাখা— এর মধ্যে ভারসাম্য রাখা, এটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানে, বন্যপ্রাণীরা পর্যটনের উপাদান হতে পারে না। বরঞ্চ তাদেরকে সংরক্ষিত করে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাকে সামনে রেখে কীভাবে পর্যটনেরও কিছুটা সুবিধা আমরা তুলতে পারি সেটা আমরা দেখব।”

মানুষ ও বাঘের সহাবস্থান এবং সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন যে, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। পর্যটন বিকাশ যেন কোনোভাবেই ব্যাঘ্র প্রকল্প বা প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। বর্তমানে রাজ্য সরকারের তরফে সুন্দরবন উন্নয়ন, বন বিভাগ ও পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গঙ্গাসাগরসহ বিভিন্ন দ্বীপ অঞ্চলকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। কিন্তু পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, ম্যানগ্রোভ ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ভারসাম্য রক্ষা না করা গেলে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাই জলপথের নতুন রুট বা ডিজিটাল অ্যাপের মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের এই ‘সুরক্ষাভিত্তিক পর্যটন’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়াটাই সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র সঠিক পথ বলে মনে করছে সচেতন মহল।