• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 3 September, 2026

ইংল্যান্ড সিরিজের পরই অবসরে রাজি ছিলেন রোহিত! সেঞ্চুরির পরই বদলে যায় ছবি? শুরু নয়া বিতর্কের

রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য এর আগেও কম জল্পনা হয়নি। ইংল্যান্ড সফরের সময় তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু

ইংল্যান্ড সিরিজের পরই অবসরে রাজি ছিলেন রোহিত! সেঞ্চুরির পরই বদলে যায় ছবি? শুরু নয়া বিতর্কের

ROHIT SHARMA PIC SOURCE-SNS

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ওয়ান ডে ম্যাচের পরেই কি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন রোহিত শর্মা? ভারতীয় ক্রিকেটে ফের উঠে এল সেই প্রশ্ন।

আজ, বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে বিসিসিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে রোহিতকে ঘিরে এমনই বিস্ফোরক দাবি সামনে এসেছে। সংবাদসংস্থার এক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, নির্বাচক কমিটির এক সদস্য নাকি রোহিতকে জানিয়েছিলেন যে তাঁকে নিয়ে আর এগোতে চাইছে না নির্বাচকেরা। যদিও সেই বার্তা প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর নিজে দেননি বলেই খবর।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সিদ্ধান্তে রোহিত যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু পরে এমন কথাও ছড়ায় যে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ব্যাপারে তিনি রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু গল্পটা বদলে যায় লর্ডসে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ান ডে-তে। সেখানে ১৩৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন রোহিত এবং তার পরই তাঁর অবসরের সিদ্ধান্ত মুলতুবি হয়ে যায়।

এই মুহূর্তে রোহিত শুধুমাত্র ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছেন। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। ফলে ২০২৭-এর ওয়ান ডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তাঁকে রাখা হবে কি না, সেটাই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শুধু রোহিত নন, বিরাট কোহলি এবং রবীন্দ্র জাদেজার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। তবে রিপোর্ট বলছে, রোহিতের মতো কোহলি এবং জাদেজা এই মুহূর্তে তেমন চাপের মধ্যে নেই বলেই শোনা যাচ্ছে। ভারত যখন ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করছে, তখন তিন সিনিয়র তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ডের অন্দরে আলোচনা স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেই রোহিতের পাশে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার জন্টি রোডস। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে শুধুমাত্র বর্তমান ফর্ম নয়, অভিজ্ঞতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিতের চারটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাকে তাই ভারতের সম্পদ বলে মনে করছেন তিনি।

 

জন্টি বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা আমরা অনেক সময় হিসাবের মধ্যে রাখি না। আমরা দেখি একজন ক্রিকেটারের প্রতিভা, দক্ষতা এবং পারফরম্যান্স। হয়তো সে দারুণ ইনিংস খেলেছে বা ভাল একটা মরসুম কাটিয়েছে। কিন্তু চাপের মুহূর্তের কথা এলে বিশ্বকাপ সবচেয়ে বেশি চাপের মঞ্চ’।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেটারেরা শারীরিক ভাবে নিজেদের সামলে নিতে পারে। কিন্তু মানসিক শক্তির বিষয়টি নির্বাচনের সময় আমরা প্রায়ই হিসাব করি না। আমি নিজে চারটি ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেছি এবং এক বারও সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরোতে পারিনি। তাই জানি, বিশ্বকাপ কতটা চাপ তৈরি করতে পারে। সেই কারণে বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার মতো একজন ক্রিকেটার দলে থাকা বিশাল সম্পদ’।

রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য এর আগেও কম জল্পনা হয়নি। ইংল্যান্ড সফরের সময় তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু রোহিত নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়ছেন না। পরে বিসিসিআইয়ের তরফেও বলা হয়েছিল, তিনি দলের পরিকল্পনায় রয়েছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই— লর্ডসে ১৩৮ কি শুধু একটি দুরন্ত ইনিংস ছিল, নাকি সেটাই রোহিতের ওয়ানডে কেরিয়ারে নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে? আজকের বৈঠকের পর সেই প্রশ্নের উত্তর কিছুটা হলেও পরিষ্কার হতে পারে।