দীর্ঘ দুবছর পর মোহনবাগান মাঠে ফিরলো কলকাতা লিগের ম্যাচ। আর ঘরের মাঠে নিজেদের প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে বেশ রাখলো সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। লিগের প্রথম ম্যাচে পাঠচক্রকে ৪-০ গোলে সহজেই হারিয়ে দিলো মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। দলের হয়ে একটি করে গোল করলেন কিয়ান নাসিরি, সুহেল ভাট, সায়ন ব্যানার্জি এবং বিভানজ্যোতি লস্কর।
যদিও, বৃষ্টিস্নাত মাঠে সোমবার ম্যাচের শুরুটা খুব একটা আহামরি করেনি বাস্তব রায়ের দল। একাধিক সুযোগ পেলেও ‘দৃশনীয়’ মিস করতে থাকেন সুহেল ভাট, কিয়ান নাসিরি, রবিলাল মান্ডিরা। ফলে, বারবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও গোলের দেখা পাচ্ছিলো না তারা। অবশেষে, খেলার ২২ মিনিট নাগাদ মোহনবাগানের হয়ে ডেডলক ভাঙলেন সেই কিয়ান নাসিরি। বাঁদিক থেকে পাঠচক্রের গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন সায়ন ব্যানার্জি। সেই শট কোনোক্রমে প্রতিহত হলে বল পায় কিয়ান। ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ভুল করেননি তিনি। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে ফের সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনীতে মেতে ওঠেন বাগান ফুটবলাররা। পাশাপাশি, বেশকিছু নিশ্চিত পতন রোধ করেন পাঠচক্র গোলরক্ষক অর্ণব দাস। ফলে, প্রথমার্ধে আর গোল ব্যবধান বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সেই একই ছবি। বল নিয়ে বারবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও প্রয়োজনীয় গোল করতে পারছিলেন না মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা। খেলার এই অর্ধে রবিলাল মান্ডির শট বেশ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক অর্ণব। খেলার ৬৫ মিনিট রোহিত সিংয়ের বাড়ানো বল থেকে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে যান সুহেল ভাট। ম্যাচের একেবারে শেষলগ্নে (৯০+২) দলের ব্যবধান বাড়ান সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে অভিষেক হওয়া সায়ন ব্যানার্জি। আর সংযুক্তি সময়ের শেষমুহূর্তে সায়নের বাড়ানো বল ধরে চতুর্থ গোলটি করে যান বিভানজ্যোতি লস্কর। দুটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন এই মরসুমে মোহনবাগানের যোগ দেওয়া সায়ন। ম্যাচ শেষে বিয়ষটি নিয়ে তরুণ এই উইঙ্গার জানান, নতুন ক্লাবের হয়ে যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলেন সেটা হয়েছে। পাশাপাশি সবুজ মেরুনের হয়ে প্রথম গোল নিজের বাবা-মাকে উৎসর্গ করলেন তিনি।




