• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 16 October, 2026

রাজধানীর বুকে পিছিয়ে গিয়েও জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ল সবুজ-মেরুন বাহিনী

৮৫ মিনিটের মাথায় যে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর, তা অভাবনীয়। পাল্টা আক্রমণে উঠে বল নিয়ে দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সের দিকে

রাজধানীর বুকে পিছিয়ে গিয়েও জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ল সবুজ-মেরুন বাহিনী

ISL Match Photo-SNS

বিরতিতে এক গোলে এগিয়ে ছিল এসসি দিল্লি। প্রাক্তনী লালরিনলিয়ানা হ্নামতের গোলেই পিছিয়ে যায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। কিন্তু বিরতির পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পরপর দুটি গোল দিয়ে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমে গোল দেন লি আরউইন, পরে মিগেল ফিগেরা। আর তাতেই চলতি আইএসএলে ২-১ জয় নিয়ে শহরে ফিরছে গ্রিক কোচ প্যানায়োতিস দিমপেরিসের দল।

এ দিন প্রথম এগারোয় মাঝমাঠে সামির জেলকোভিচকে তুলে মিগেলকে নামায় মোহনবাগান। ডাবল পিভটে লালেংমাওইয়া রালতের সঙ্গে খেলেন অনিরুদ্ধ থাপা। আক্রমণে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে ছিলেন লি আরউইন।

প্রথমার্ধে মোহনবাগান এসজি গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—সব বিভাগেই দেখা যায় পরিকল্পনার অভাব। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই এসসি দিল্লি ক্রমশ তাদের ওপর চাপ বাড়ায়।

ম্যাচের শুরুর দিকেই মাঝমাঠে বল পেয়ে দূর থেকে ডান পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন রদ্রিগিনহো। বলটি ক্রমশ নীচে নামলেও লক্ষ্যভেদ করার মতো জায়গায় যেতে পারেনি।

ওই সময় পর্যন্ত একমাত্র ১৯ মিনিটের মাথায় আরউইনের গোলমুখী শটটি ছাড়া তেমন কোনো স্পষ্ট আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি মোহনবাগান। কিন্তু সেই শট আটকে দেন গোলকিপার নোরা ফার্নান্ডেজ।

২৩ মিনিটের মাথায় গোল করে দেয় দিল্লির দল। বাঁ প্রান্ত থেকে লম্বা বল পেয়ে মোহনবাগানের রক্ষণ ভেঙে দ্রুত গতিতে অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকে পড়েন মোহনবাগানের প্রাক্তনী লালরিনলিয়ানা হ্নামতে। বাগানের রক্ষণকে কার্যত কোনো সুযোগ না দিয়েই বলটি বুকে নামিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি। তার পর বিশাল কয়েথের পায়ের তলা দিয়ে বল সোজা গোলে পাঠিয়ে দেন হ্নামতে।

এই গোলের প্রায় মিনিট ১৫ পরে ফের গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় দিল্লি। মহম্মদ আইমেনের শট মেহতাব সিং দুর্দান্ত ভাবে ব্লক না করলে হয়তো দ্বিতীয় গোল খেয়েই যেত সবুজ-মেরুন বাহিনী। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া আরউইনের শট ফের বানচাল করে দেন নোরা। প্রথমার্ধে টার্গেটে থাকা শটের সংখ্যার দিক থেকে এগিয়েই ছিল মোহনবাগান (৪-৩)। কিন্তু এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দিল্লি।

ISL Match Photo-SNS
ISL Match Photo-SNS

বিরতির পর অন্য মোহনবাগানকে দেখা যায় মাঠে। আক্রমণের তীব্রতা অনেকটাই যেন বেশি এই অর্ধে। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে পরপর দুটি গোল করে দিল্লিকে পিছনে ফেলে দেয় তারা।

৫৬ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল। একসঙ্গে একাধিক খেলোয়াড়কে আক্রমণে তুলে এসসি দিল্লির রক্ষণে চাপ বাড়ায় মোহনবাগান। সেখান থেকেই কোনও রকমে বল বাড়ান রাহুল ভেকে। সামনে বল পেয়ে সহজেই নোরা ফার্নান্ডেজকে পরাস্ত করে জালে বল ঠেলে দেন লি আরউইন।

এর চার মিনিট পরেই ফের গোল। চার এসসি দিল্লি ফুটবলারকে কাটিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যান অভিষেক সিং। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে তিনি নিখুঁত পাস বাড়ান মিগেলকে। বাঁ পায়ের নিচু শটে নোরাকে পরাস্ত করেন মিগেল। এক গোলে পিছিয়ে থাকার পরও এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

এর দুমিনিট পরেই ফের গোলের সুযোগ পান আরউইন। দেজান দ্রাজিচের পাস পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে পেয়ে যান আরউইন। বাঁ পায়ের শটে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন তিনি। তবে দুরন্ত সেভে মোহনবাগানের অবধারিত গোল আটকে দেন নোরা ফার্নান্ডেজ। এই সময়ে মোহনবাগানকে সেরা ছন্দে দেখা যায়।

কিন্তু মোহনবাগানকে এ বার অন্য লড়াইয়ে নামতে হয়। পরপর দুবার প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান মিগেল। তাঁকে ঘিরেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন রেফারি। এর পর মিগেলকে ফাউল করার জন্য ক্ল্যারেন্সকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি। ৭৩ মিনিটের মাথায় মাঠে নামেন সামির জেলকোভিচ ও মনবীর সিং। অনিরুদ্ধ থাপা ও আরউইনকে তুলে নেন কোচ দিমপেরিস।

কিন্তু মিগেলকে শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখতে পারেননি দিমপেরিস। ম্যাচের ৭৮ মিনিটের মাথায় দেখা যায়, চোট পেয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মিগেল। শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তাঁর পরিবর্তে মাঝমাঠে নামেন সহাল আবদুল সামাদ।

৮৫ মিনিটের মাথায় যে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর, তা অভাবনীয়। পাল্টা আক্রমণে উঠে বল নিয়ে দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সের দিকে এগিয়ে যান মনবীর সিং। কিন্তু নিজে গোলে শট না নিয়ে সহাল আবদুল সামাদের দিকে বল বাড়ান তিনি। সহাল পাস দেন সমির জেলকোভিচকে। তাঁর শট আটকে দেন গোলকিপার।সংযুক্ত সময়ে ফের মনবীরের শট বারে লেগে ফিরে আসে। না হলে আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত মোহনবাগান।