ক্রোয়েশিয়ার ৩৪ বছর বয়সি সেন্টার ব্যাক দিয়েগো জিভুলিচের খেলা দেখে ইস্টবেঙ্গলের বহু সমর্থকই হতাশ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর দুটি ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট করে খেলেন তিনি। কিন্তু এই দুই ম্যাচে পাঁচ গোল খায় ইস্টবেঙ্গল। তবে জিভুলিচের ব্যাপারে সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে চান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তিনি মনে করেন জিভুলিচ যথেষ্ট ভাল মানের ডিফেন্ডার। ইস্টবেঙ্গলের আর এক ডিফেন্ডার আনোয়ার আলিও কোচের সঙ্গে একমত।
জিভুলিচকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘দলে নতুন এসেছে দিয়েগো। ভারতীয় ফুটবলের পরিবেশ এবং এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওর অনেক সময় লাগবে। দিয়েগো যথেষ্ট ভাল মানের ফুটবলার এবং ওর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যত দিন যাবে ও ক্রমশ নিজেকে তৈরি করে নেবে’।
রক্ষণে জিভুলিচের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও ক্রমশ উন্নত হচ্ছে বলে মনে করেন ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। তিনি বলেন, ‘দিন যত এগোচ্ছে, মাঠে আমাদের বোঝাপড়া ততই আরো ভাল হচ্ছে। ছোটখাটো কিছু ভুলত্রুটি হচ্ছে ঠিকই, তবে অনুশীলনে আমরা সেই ভুলত্রুটি মেরামত করতে আমরা পরিশ্রম করছি। আমার মনে হয়, দিয়েগো দ্রুতই পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারবে’।
সাম্প্রতিক এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ ম্যাচে আল শোর্তার বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও হার নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। সেইসব সমালোচনার জবাব দিয়ে হাবাস বলেন, ‘আল শোর্তা কোনও সাধারণ দল নয়, ওদের স্কোয়াডে ইরাক জাতীয় দলের ৮ জন নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। ইরাকের ফিফা র্যাঙ্কিং ৫৮, সেখানে ভারতের অবস্থান ১৩৮। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল খাওয়া দুর্ভাগ্যজনক ঠিকই। তবে আমাদের দল কিন্তু সারা ম্যাচে লড়াই করেছে’।
তবে আপাতত হাবাসের ফোকাস আইএসএলের প্রথম ম্যাচ। রবিবার গোয়ায় চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে আইএসএল অভিযান শুরু করবে ইস্টবেঙ্গল। হাবাস মনে করেন, শুরুতেই বেশ কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে তাদের।
চার্চিল ব্রাদার্স প্রথম ম্যাচে যেভাবে মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়েছে, তাই ইস্টবেঙ্গল তাদের গুরুত্ব না দেওয়ার ভুল করবে বলে মনে হয় না। হাবাস তা করছেনও না। বলেন, ‘আই-লিগের সময় থেকেই চার্চিল ব্রাদার্সকে আমি খুব ভাল ভাবে জানি। আইএসএলে ওরা নিজেদের প্রমাণ করতে সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপাবে। ফলে ম্যাচটা আমাদের কাছে বেশ কঠিন হতে চলেছে। তবে ওদের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়েও বলছি, আমাদের লক্ষ্য থাকবে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া।’
দলের প্রস্তুতি নিয়ে অবশ্য কোনো অভিযোগ নেই স্প্যানিশ মহাগুরুর। হাবাসের মতে, ‘প্রায় দু-তিন মাসের প্রাক-মরশুম প্রস্তুতি এবং ডুরান্ড কাপ, আইএফএ শিল্ড এবং এএফসি-র জোড়া ম্যাচ খেলে আমাদের দলের ভালো প্রস্তুতি হয়েছে’। টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তি নিয়ে ভাবতে নারাজ কোচ; তাঁর মতে, ‘আমাদের দলে অনেক ফুটবলার রয়েছে। তাই ওই নিয়ে চিন্তা নেই। দলের শক্তির ওপর ভর করেই ছেলেরা সেরা পারফরম্যান্স দিতে তৈরি’।
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ফতোরদা জয় করে উৎসবের মরশুমে লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোই এখন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ মহাগুরুর প্রধান লক্ষ্য।




