• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 28 October, 2026

ব্যালন ডি’অরে হারতেই কিলিয়ান এমবাপের ‘মিনি ট্রফি’ পাওয়ার রসিকতা নিয়ে জোর চর্চা

গত মরসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪টি ম্যাচে ৪২টি গোল করেছিলেন এমবাপে। লা লিগায় ২৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি

ব্যালন ডি’অরে হারতেই কিলিয়ান এমবাপের ‘মিনি ট্রফি’ পাওয়ার রসিকতা নিয়ে জোর চর্চা

Kylian Mbappe Photo-SNS

ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল কিলিয়ান এমবাপের। এ বারও ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে পারলেন না রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা। ২০২৬-এর ব্যালন ডি’অরে তাঁকে পিছনে ফেলে সেরার শিরোপা জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। আর তার পরেই এমবাপেকে নিয়ে পুরনো একটি ভিডিও নিয়ে রসিকতা নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। যাকে বলে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়া।

স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে একটি কমেডি শোয়ে এমবাপেকে ব্যালন ডি’অরের ছোট্ট একটি নকল ট্রফি দেওয়া হয়েছিল। সেই ভিডিও এখন নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। কারণ, যে পুরস্কারটি নিয়ে মজা করা হয়েছিল, বাস্তবে সেই ট্রফির জন্যই এ বার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন এমবাপে। কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন হ্যারি কেন।

 

কী হয়েছিল সেই অনুষ্ঠানে?

নেটফ্লিক্সের ‘দ্য জাদেল শো’-এর একটি পর্বে ফরাসি কৌতুকশিল্পী ইলিয়েস জাদেল এমবাপেকে নিয়ে মজা করেন। ২০২৬-এর মে মাসে প্যারিসে রেকর্ড করা হয়েছিল সেই অনুষ্ঠান। ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের ঠিক আগে সেটি সম্প্রচারিত হয়।

জাদেল এমবাপেকে বলেন, তাঁর কেরিয়ারে অনেক সাফল্য এসেছে, কিন্তু একটি জিনিস এখনও অধরা। তার পরেই পুরস্কার দেওয়ার ভঙ্গিতে একটি ছোট্ট নকল ব্যালন ডি’অর তুলে দেন ফরাসি তারকার হাতে। এমবাপেও হাসিমুখে সেই রসিকতায় যোগ দেন। তখন ঘটনাটি ছিল নিছক মজার। কিন্তু হ্যারি কেনের কাছে হারের পরে সেই ভিডিওই যেন অন্য তাৎপর্য পেয়েছে।

Mbappé’s Ballon d’ Photo-SNS
Mbappé’s Ballon d’ Photo-SNS

অল্পের জন্য স্বপ্নভঙ্গ

এবারের ব্যালন ডি’অরে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল। ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর প্রধান সম্পাদক ভিনসেন্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, ভোটের একটা বড় অংশ জুড়ে এগিয়ে ছিলেন এমবাপে। কিন্তু শেষ দিকে কেন ব্যবধান ঘুচিয়ে তাঁকে টপকে যান। দুই ফুটবলারের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান ছিল ২০২৪ সালে রদ্রি ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মধ্যে থাকা ৪১ পয়েন্টের ব্যবধানের চেয়েও কম।

গার্সিয়ার কথায়, ‘এ বার কেন এবং এমবাপের মধ্যে প্রথম স্থান পাওয়ার লড়াই ছিল অবিশ্বাস্য রকমের কাছাকাছি। ভোটের ফল যখন সামনে আসছিল, তখন দীর্ঘ সময় এগিয়ে ছিলেন কিলিয়ান। কিন্তু শেষ দিকে হ্যারি কেন ফিরে আসে এবং খুবই অল্প কয়েকটি পয়েন্টের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত হয়’।

ব্যক্তিগত সাফল্যেও শেষরক্ষা হল না

গত মরসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪টি ম্যাচে ৪২টি গোল করেছিলেন এমবাপে। লা লিগায় ২৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ১৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে ১০টি গোল করে গোল্ডেন বুটও জেতেন।

এমবাপের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান দুর্দান্ত হলেও রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি। ফ্রান্সও বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হয়েছে। অন্য দিকে, কেনের ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে ছিল বায়ার্নের ট্রফি জয়। ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সেই সাফল্যই পার্থক্য গড়ে দিল। আর এমবাপের হাতে থেকে গেল সেই ছোট্ট নকল ট্রফি— যা এখন তাঁর অধরা স্বপ্নেরই প্রতীক হয়ে উঠেছে।