• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 27 October, 2026

মাওকে ‘চিনের একনায়ক’ বলে বড় বিতর্কে এমবাপে, তিন ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর বাধ্য হলেন ক্ষমা চাইতে

ব্যালন ডি’অরে হ্যারি কেনের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন কিলিয়ান এমবাপে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এক

মাওকে ‘চিনের একনায়ক’ বলে বড় বিতর্কে এমবাপে, তিন ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর বাধ্য হলেন ক্ষমা চাইতে

ব্যালন ডি’অরে হ্যারি কেনের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন কিলিয়ান এমবাপে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওয় চিনের প্রাক্তন নেতা মাও সে তুংকে ‘এক জন চিনা একনায়ক’ বলেছেন তিনি। এমনই অভিযোগ উঠেছে ফরাসি তারকার বিরুদ্ধে। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে চিনের সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এই মন্তব্যের পরেই এমবাপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করে তিনটি চিনা সংস্থা— পানীয় প্রস্তুতকারক ডংপেং, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারক মেংনিউ এবং চিজ প্রস্তুতকারক মিল্কগ্রাউন্ড। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হয়েছে এমবাপে-কে।

কী বলেছিলেন এমবাপে?

বিতর্কের সূত্রপাত একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও থেকে। সেখানে এমবাপেকে তাঁর নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া পছন্দের মিম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁর দেখা মজার মিমগুলির মধ্যে একটিতে তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল এক ব্যক্তির ছবিতে। সেই ব্যক্তিকে ‘চিনের একনায়ক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার পরেই ভিডিওয় দেখানো হয়, মাও সে তুংয়ের শরীরে এমবাপের মুখ বসানো একটি ছবি।

তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা সে দেশে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ফলে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। সমাজমাধ্যমে এমবাপেকে বয়কট করার ডাকও ওঠে।

মন্তব্যের পরেই বিপাকে এমবাপে

বিতর্কের পরেই এমবাপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানায় ডংপেং, মেংনিউ এবং মিল্কগ্রাউন্ড। সংস্থাগুলি নিজেদের বিবৃতিতে জাতীয় আবেগে আঘাত করে, এমন আচরণের বিরোধিতা করেছে।

ডংপেং জানায়, জাতীয় আবেগে আঘাত করে এমন আচরণের ক্ষেত্রে তাদের সংস্থার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। অবিলম্বে এমবাপের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার কথাও জানানো হয়। মেংনিউ এবং মিল্কগ্রাউন্ডও একই পথে হাঁটে।

চিনের সমাজমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এমবাপের সঙ্গে সংস্থাগুলির সম্পর্ক ছিন্ন করার খবর আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় তারকার বাণিজ্যিক ভাবমূর্তিতেও এই বিতর্ক বড় ধাক্কা দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমা চেয়ে কী বললেন এমবাপে?

বিতর্ক বাড়তে থাকায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের একটি ছবি দেখে আমি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। আমার মন্তব্যটি যথাযথ ছিল না। এখন বুঝতে পারছি, চিনে এবং সারা বিশ্বের চিনা সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের মনে তা আঘাত দিয়েছে।’

এখানেই থামেননি এমবাপে। তাঁর সংযোজন, ‘আমার কথায় যাঁরা কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। চিনের মানুষ এবং তাঁদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’