এশিয়ান গেমসে অভিযান শুরু করেই দাপট দেখাল ভারত। ঐতিহাসিক ম্যাচে জাপানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেল হরমনপ্রীত কৌরের দল। প্রথমে বল হাতে শ্রী চারণির ঘূর্ণি, তার পরে ব্যাট হাতে শেফালি ভার্মার ঝড়—দুই তরুণীর দাপটেই মাত্র ৫ ওভারে ৫৮ রানের লক্ষ্য তুলে নিল ভারত। সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। আয়াকা কাতো-স্ট্যাফোর্ড এবং হারুনা ইওয়াসাকি মিলে প্রথম ছয় ওভারে ২৪ রান তুলে দেন। কিন্তু তার পরেই ম্যাচের রং বদলে দেন শ্রী চারণি।
ষষ্ঠ ওভারের শেষ দুই বলে পর পর উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি স্পিনার। প্রথমে ইওয়াসাকিকে শেফালির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরান। পরের বলেই জাপানের অধিনায়ক মাই ইয়ানাগিদাকে রিচা ঘোষের হাতে ক্যাচ করান চারণি।
চারণির স্পেল শেষ হয় ৪-২-১০-৪-এ। এশিয়ান গেমসে কোনও ভারতীয় বোলারের সেরা বোলিং এটিই। একই সঙ্গে তাঁর ৪/১০ এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে যৌথ ভাবে সেরা বোলিংয়ের নজিরও। এর আগে ভারতের হয়ে এই রেকর্ড ছিল পূজা বস্ত্রাকরের—২০২২ এশিয়াডে ৪/১৭।
চারণির পাশাপাশি বল হাতে জ্বলে ওঠেন শেফালিও। চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে নেন দু’টি উইকেট। দীপ্তি শর্মাও পান একটি উইকেট। দীপ্তির সেই উইকেটের সঙ্গে তৈরি হয় আরও একটি নজির—এশিয়ান গেমসের দু’টি সংস্করণে উইকেট নেওয়া প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জাপান। ভারতীয় স্পিনারদের সামনে কার্যত কোনও উত্তর ছিল না তাদের।
শেফালি বর্মা প্রথম ওভারেই চারটি বাউন্ডারি মেরে ম্যাচের গতিপথ স্পষ্ট করে দেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন শেফালি। তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টি চার এবং দু’টি ছক্কা। শেষ ওভারে ছক্কা মেরে তিনিই ভারতকে জিতিয়ে দেন।
ভারত ৫ ওভারে ৫৯/২ তুলে ম্যাচ শেষ করে। স্মৃতি মন্ধানা এ দিন ওপেন করেননি। গুনালান কামালিনিকে শেফালির সঙ্গে ওপেন করতে পাঠানো হয়েছিল। কামালিনি শূন্য রানে ফিরে যান, ভারতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেটটি পড়ে ভারতী ফুলমালির। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে।
এশিয়ান গেমসের এই ম্যাচটি ছিল ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ। আর সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়েই জাপানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল গত বার সোনাজয়ী ভারত। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর শেষ চারে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নামবেন হরমনপ্রীতরা। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।




