• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

দক্ষিণ কোরিয়ার হকি ম্যাচে বাজল উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত! এশিয়ান গেমসে ফের আয়োজকদের চরম ভুল

দুই দেশের মধ্যে ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি; যুদ্ধবিরতিতেই সংঘাত থেমেছিল। ফলে দুই দেশ এখনও কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার হকি ম্যাচে বাজল উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত! এশিয়ান গেমসে ফের আয়োজকদের চরম ভুল

Photo: X

এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন এখনও হয়নি। তার আগেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে নাগোয়া। এ বার ভুল করে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের বদলে বাজিয়ে দেওয়া হল উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত! শুক্রবার বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া পুরুষ হকি ম্যাচের আগে এই ঘটনায় মাঠে কার্যত হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের।

গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর কথা ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার দল মাঠে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখনই বেজে ওঠে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত। নিজেদের দেশের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। কেউ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন, কেউ মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কয়েক জন আবার পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে বুকের উপর হাত রেখেই দাঁড়িয়ে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর ভুল বুঝতে পারেন আয়োজকেরা। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কিন্তু তাতেও যে সমস্যার সমাধান হয়েছে, তা নয়। ভুল শোধরানোর জন্য যেটি পরে বাজানো হয়, সেটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। সেটাও ভুল হচ্ছে দেখে ফের তা বন্ধ করে অবশেষে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। এইসব কাণ্ড হতে হতে তত ক্ষণে ম্যাচ শুরুর সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল। ফলে রেফারি দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত মেলাতে এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা জাতীয় সঙ্গীত শেষ পর্যন্ত গাইতেও পারেননি।

স্টেডিয়ামের ঘোষক পরে ভুলের জন্য ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিই দুঃখিত, ভীষণ দুঃখিত। দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীতের জায়গায় আমরা অন্য একটি গান বাজিয়ে ফেলেছি। এর জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত’।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ মিন তে-সিওকও ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তাঁর কথায়, ‘একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন ঘটনা ঘটেছে, এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না’। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান স্পোর্ট অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটি এই ঘটনার জন্য আয়োজকদের কাছে সরকারি ভাবে অভিযোগ জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছে।

ঘটনাটি আরও স্পর্শকাতর, কারণ, দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত নিষিদ্ধ। দুই দেশের মধ্যে ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি; যুদ্ধবিরতিতেই সংঘাত থেমেছিল। ফলে দুই দেশ এখনও কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

তবে মাঠে এই অস্বস্তিকর ঘটনার প্রভাব পড়তে দেননি দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা। বরং বাংলাদেশকে ৫-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমস অভিযান শুরু করেছে তারা। সিম জে-ওন, লি গ্যাং-সান, ওহ সে-ইয়ং, বে সেউং-মিন এবং ইয়াং জি-হুন গোল করেন।

এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শনিবার। কিন্তু তার আগেই আবাসন, যাতায়াত, অ্যাক্রেডিটেশন-সহ একাধিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর ঘটনা সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।