রাতের কলকাতায় এবার নজরকাড়া সৌন্দর্যে হাওড়া ব্রিজ। ৩৮২৫টি লুমিনেয়ারের ডায়নামিক আলোকসজ্জায় নতুন রূপে ধরা দেবে রবীন্দ্র সেতু। স্বাধীনতা দিবস থেকে দুর্গাপুজো, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিন ও উৎসবে বদলাবে আলোর সাজসজ্জা। তার সঙ্গে থাকবে সমন্বিত শব্দের আয়োজনও।

বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের নির্দেশনায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্ট, কলকাতার উদ্যোগে এই আলোকসজ্জা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। সেতু জুড়ে বসানো হয়েছে ৩৮২৫টি লুমিনেয়ার। আলোকসজ্জার মোট বৈদ্যুতিক ক্ষমতা ৩৮৫ কিলোওয়াট। নতুন ব্যবস্থায় সেতুর মূল কাঠামো, বিভিন্ন পৃষ্ঠ, ক্রাউন এবং প্রধান পাইলনগুলিকে আলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। আলোর সঙ্গে থাকবে সমন্বিত শব্দের ব্যবস্থাও। ফলে নির্দিষ্ট দিনে দেখা যাবে ডায়নামিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো।

স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস এবং গান্ধী জয়ন্তীর পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি, হোলি-সহ বিভিন্ন উৎসবেও আলোর বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হবে। অর্থাৎ উপলক্ষ অনুযায়ী বদলাবে সেতুর আলোর থিম। ২২.৩৫ কোটি টাকা মূল্যের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে এম এম ব্রাদার্স। আলোকসজ্জার কাজে সহায়তা করেছে হ্যাভেলস লাইটিং। প্রযুক্তিগত পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

শুধু সেতুর সামনে দাঁড়িয়েই নয়, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই আলোকসজ্জা দেখার সুযোগ থাকছে। ডায়নামিক লাইট শো এবং তার সঙ্গে সমন্বিত শব্দ নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে নাগরিকদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও এই আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ৪ মাসে ২৪৯ কোটি টাকা খরচ কীভাবে? বিস্তারিত হিসেব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্ট, কলকাতার চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমণ বলেন, ‘রবীন্দ্র সেতুর এই আলোকসজ্জা শুধু একটি সেতুকে আলোয় সাজানোর বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার ঐতিহ্য। হাওড়া ব্রিজ এই শহর এবং দেশের মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত। এই ডায়নামিক স্থাপত্য আলোকসজ্জা সেতুটির ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যকে আরও তুলে ধরবে। সেই সঙ্গে কলকাতার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উদ্যাপনের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্টের দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্ট হবে।’ কলকাতার হেরিটেজ পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ নতুন আকর্ষণ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




