• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 19 July, 2026

এক্সক্লুসিভ: যে স্টেডিয়ামে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, সেই মেটলাইফেই আজ ফাইনাল, নিউ জার্সির ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারবেন মেসি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইনালে মেসির তাগিদের সব উপাদানই রয়েছে— একদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়, অন্যদিকে শাপমোচনের তাগিদ

এক্সক্লুসিভ: যে স্টেডিয়ামে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, সেই মেটলাইফেই আজ ফাইনাল, নিউ জার্সির ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারবেন মেসি?

Lionel Messi Photo-SNS

এক দশক আগে এই মাঠ ছেড়েছিলেন অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে। বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার পথ চলা এখানেই শেষ হল’। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই রবিবার ফের নামতে দেখা যাবে লিওনেল মেসিকে। অতীতের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি মুছে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে নামবেন তিনি। কিন্তু এই স্টেডিয়ামের ‘অভিশাপ’ কি কাটাতে পারবেন মেসি?

বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ফুটবলবিশ্বের কাছে এটি শুধু দুই সবচেয়ে শক্তিশালী দলের লড়াই নয়, মেসির ব্যক্তিগত জীবনেরও এক অসমাপ্ত অধ্যায়ের শেষ পর্ব। কারণ এই মাঠেই ২০১৬ কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

২০১৬-র ২৬ জুনের রাতে সেই কোপা আমেরিকা ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটটি বাইরে মেরে বসেন মেসি। শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতে নেয় চিলি। ম্যাচ শেষের পর টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে মন ভেঙে দেওয়া এক দৃশ্য—যেখানে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে শিশুর মতো হাউ হাউ করে কাঁদছেন মেসি। তাঁর ফুটবল জীবনে জনসমক্ষে মেসিকে এতটা ভেঙে পড়তে বোধহয় আগে কখনো দেখেনি কেউ।

সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও করেছিলেন তিনি। বলে দেন, ‘জাতীয় দলের জার্সিতে আমার পথ চলা শেষ। আমি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আর নয়’। মহানায়কের এই কথাগুলি মুহূর্তের মধ্যে গোটা আর্জেন্টিনাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল।

মেসির অবসরের সিদ্ধান্তের পর গোটা আর্জেন্টিনা তাঁকে ফিরে আসার আবেদন জানায়। সে দেশের কোটি কোটি সমর্থকের মধ্যে ছিলেন ১৫ বছরের এক কিশোরও। তাঁর নাম এনজো ফার্নান্দেজ। নিজের ফুটবলগুরুকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখতে পাবেন না ভেবে সমাজ-মাধ্যমে এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন এনজো। তখন তিনি রিভার প্লেটের যুব দলে খেলা এক ফুটবলার।

এনজো লিখেছিলেন, ‘তুমি যা খুশি করো, লিওনেল। কিন্তু দয়া করে ফুটবল ছেড়ে যেও না। শুধু আনন্দ করে খেলো। এই মানুষগুলো তো তোমার কাছ আনন্দটুকুই কেড়ে নিয়েছে’।

সেই বার্তা তখন সারা আর্জেন্টিনায় ভাইরাল হয়ে যায়। ভাগ্যের কী অদ্ভুত পরিহাস! যে কিশোর একদিন সমাজ মাধ্যমে মেসিকে ফিরে আসার কাতর অনুরোধ জানিয়েছিল, সেই এনজোই এখন আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে দলের অন্যতম প্রধান ভরসা এবং ফাইনালে মেসির সবচেয়ে বড় সহযোদ্ধা।

মেসি সে দিন কোটি কোটি ভক্তের আবেদন শুনেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত বদল করে ফের মাঠে ফিরে আসেন। কিন্তু দশ বছর পর তাঁকে ফের মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ফিরে আসতে হবে বিশ্বকাপের ফাইনালে নামার জন্য, তা কী আর জানতেন?

ফুটবলই মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই ‘অভিশপ্ত’ মঞ্চে। তবে এবার আর চোখের জলে ভাসতে নয়, ট্রফি হাতে হাসিমুখে মাঠ ছাড়তেই নামবেন তিনি। উত্তর আমেরিকার মাটিতে তাঁর কেরিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ অধ্যায়টি পূরণ করার এটাই শেষ সুযোগ।

লিওনেল স্কালোনির দল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে। কিন্তু ফাইনালে মাঠে নামার আগে সবচেয়ে বড় লড়াইটা হয়তো হবে মানসিক। কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণ আজ মেসিকে মনে করিয়ে দেবে ২০১৬-র সেই চোখের জলে ভরা রাতের কথা।

বার্সেলোনায় দীর্ঘ কেরিয়ারের সুবাদে স্প্যানিশ ফুটবলকে হাতের তালুর মতো চেনেন মেসি। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইনালে মেসির তাগিদের সব উপাদানই রয়েছে— একদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়, অন্যদিকে শাপমোচনের তাগিদ।

ফুটবল সব সময়ই ফুটবলারদের দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়। আর লিওনেল মেসির সামনে এখন সেই বিরল সুযোগ। জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতিকে ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দে বদলে দেওয়ার সুযোগ। এনজো ফার্নান্দেজ ও অন্য সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন, মেটলাইফ স্টেডিয়াম আর যেন তাঁর চোখের জলে না ভাসে, বরং চিরস্মরণীয় বিশ্বজয়ের মঞ্চ হিসেবেই তাঁর আত্মজীবনীতে জায়গা করে নেয়।