• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

টেস্টে জয়ের চেয়ে হার বেশি! ইংল্যান্ডে হারের ধাক্কায় পাকিস্তান দলে আসছে বড়সড় বদল!

এই বিষয়ে উপমহাদেশের দেশগুলির চেয়ে অনেক এগিয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০৯৯টি টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ডের জয়

টেস্টে জয়ের চেয়ে হার বেশি! ইংল্যান্ডে হারের ধাক্কায় পাকিস্তান দলে আসছে বড়সড় বদল!

Pakistan Team Photo-SNS

দু’টি টেস্টেই লজ্জার হার। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ ইতিমধ্যেই ২-০ হেরে বসে আছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসেও ১৯৪ রানে হার। সেই ধাক্কাতেই এ বার দলে তড়িঘড়ি বদলের পথে হাঁটছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলে যেমন বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই বদল আসতে পারে কোচেদের দলেও।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট। তার আগে পাকিস্তান থেকে একাধিক ক্রিকেটারকে উড়িয়ে আনার পরিকল্পনা করছে পিসিবি। সূত্রের খবর, জনা ছয়েক নতুন ক্রিকেটারকে দলে ডাকা হতে পারে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব এবং আরাফাত মিনহাস। বাকি ক্রিকেটারদের ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই তাঁরা ইংল্যান্ডে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

সবচেয়ে বড় কোপ পড়তে পারে মহম্মদ রিজ়ওয়ানের উপর। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা প্রবল। ইমাম-উল-হকের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত হতে পারে। তাঁর পায়ের পেশিতে চোট রয়েছে। দেশে ফিরে সেই চোটের চিকিৎসা করানো হবে বলে খবর।

কোচিং স্টাফেও আমূল বদল?

শুধু ক্রিকেটার নয়, কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আসতে পারে। পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে তৃতীয় টেস্টে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সরফরাজ় আহমেদ দলের সঙ্গে থাকবেন বলে খবর, কিন্তু লাল বলের কোচ হিসাবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। যদিও পিসিবি এখনও সরকারি ভাবে এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেনি।

হেসন এবং পাকিস্তানের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ ইতিমধ্যেই লন্ডনে রয়েছেন। লর্ডস টেস্টের আগেই তাঁরা ইংল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পিসিবির তরফে তখন জানানো হয়েছিল, ২ সেপ্টেম্বর রাজা তৃতীয় চার্লসের দেওয়া নৈশভোজে পাকিস্তান দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্যই তাঁরা লন্ডনে এসেছেন। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, সিওও সুমাইর আহমেদও ইংল্যান্ডে আসতে পারেন।

প্রথম টেস্টে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১১০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৪ রানে অলআউট হয়েছিল। লর্ডসেও ইংল্যান্ডের পেসারদের সামনে ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। অলিভার রবিনসন, জশ টং এবং জোফ্রা আর্চারের দাপটে পাকিস্তানের ব্যাটারদের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে।

দুই টেস্টেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মূল অস্ত্র হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের জয়ের পর লর্ডসে ১৯৪ রানে জিতে সিরিজ পকেটে পুরে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে তৃতীয় টেস্ট এখন পাকিস্তানের কাছে সম্মানরক্ষার লড়াই।

জয়ের চেয়ে হার বেশি!

এই আবহে একটি পরিসংখ্যান পাকিস্তানের ক্রিকেটের বেহাল দশাকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। কী সেই পরিসংখ্যান? দেখা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত পাকিস্তান যতগুলি টেস্টে খেলেছে, তার মধ্যে জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যাই বেশি। এ পর্যন্ত মোট ৪৭৩টি টেস্ট খেলেছে। লর্ডস টেস্টে তারা ১৫৪তম হার স্বীকার করে। আর জয়ের সংখ্যা ১৫৩। অর্থাৎ, লর্ডসেই জয়ের সংখ্যাকে পিছনে ফেলে দিল হারের সংখ্যা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উপমহাদেশীয় টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির সবারই একই অবস্থা। এমনকী, পাকিস্তানের মতো ভারতের হারের সংখ্যাও জয়ের সংখ্যার চেয়ে বেশি। ৬০১টি টেস্টের মধ্যে ভারত যেখানে ১৮৭টি-তে জিতেছে, সেখানে হেরেছে ১৮৮টি ম্যাচে। শ্রীলঙ্কা যেখানে ১০৭টি টেস্ট জিতেছে, সেখানে হেরেছে ১২৯টি-তে। আর বাংলাদেশ যেখানে ২৮টি টেস্ট জিতেছে, সেখানে হেরেছে ১১৪টিতে। মাত্র ১৩টি টেস্ট খেলা আফগানিস্তান চারটিতে জিতেছে ও আটটিতে হেরেছে।

এই বিষয়ে উপমহাদেশের দেশগুলির চেয়ে অনেক এগিয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০৯৯টি টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ডের জয়-হারের সংখ্যা ৪০৭-৩৩৬। অস্ট্রেলিয়ার ৪২৭-২৩৬ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯১-১৬২। বরং নিউজিল্যান্ড (১২৬-১৯০) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৮৭-২২৪) ভারত, পাকিস্তানেরই পাশে।

৯ সেপ্টেম্বর থেকে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে জয় ও হারের সংখ্যা আপাতত সমান করার লক্ষ্যেই নামবে পাকিস্তান। তার আগে পাকিস্তান এখন কার্যত নতুন করে দল গড়ার তোড়জোড় করছে। দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তারা? তার উত্তরই এখন খুঁজছে পাকিস্তানের ক্রিকেটমহল।