রঞ্জি ট্রফির সেমি ফাইনাল ম্যাচে দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরকে চাপে রেখে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে বাংলা। এককথায় বলা যায় সোমবার কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির উইকেট ছিল বোলারদের জন্য। এই উইকেটে পুরোপুরি ব্যবহার করে বাংলার বোলাররা প্রতিপক্ষ দলকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন। বাংলার প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রানের জবাবে জম্মু-কাশ্মীর ৫১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ বাংলা এখন ১৩০ রানে এগিয়ে রয়েছে।
রবিবার প্রথম দিনে বাংলা ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান করেছিল। সেখান থেকে বাংলার ইনিংস শেষ হয় ৩২৮ রানে। সুদীপকুমার ঘরামি ১৪৬ রানে আউট হয়ে যান। সুমন্ত গুপ্ত করেছেন ৩৯ রান। তিনি ৩৬ বলে এই রান করেন। আকাশ দীপের ব্যাট থেকে আসে ৭ রান। শাকিব হাবিব গান্ধী ৪ রান করে আউট হয়ে যান। ভারতের অন্যতম সেরা পেসার মহম্মদ শামি ১ রান করেন। জম্মু-কাশ্মীরের আকিব নবি ৮৭ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নিয়ে সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন।
Advertisement
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে গত মরশুমে রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে ৪৪টি উইকেট নিয়ে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন আকিব। তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট প্রাপক হিসেবে তৃতীয় স্থানে। চলতি মরশুমে নিজের দলকে বোলিং ইউনিটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর নামের পাশে ২১টি উইকেট রয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মায়াঙ্ক মিশ্র ৫২টি উইকেট পেয়েছেন। জম্মু-কাশ্মীরের সুনীল কুমার তিনটি উইকেট পেয়েছেন। যুধবীর সিং ও আবিদ মুস্তাক একটা করে উইকেট পান।
Advertisement
স্বাভাবিকভাবে, বাংলার ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু-কাশ্মীর খেলতে নেমে খুব তাড়াতাড়ি তিনটি উইকেট পড়ে যায়। তাদের স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ১৩ রান। দলের পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার জন্য অধিনায়ক পরশ ডোগরা ও আবদুল সামাদ শক্ত হতে ব্যাট করতে শুরু করেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ১৪৩ রান যোগ করেন। জম্মু-কাশ্মীর শিবিরে তখন কিছুটা স্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হলেও, দলের ১৫৬ রানের মাথায় সামাদ ও ডোগরা দু’জনেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান।
অধিনায়ক পরশ ডোগরার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৮ রান। আর আবদুল সামাদ অল্পের জন্য শতরান থেকে বঞ্চিত হন। তিনি ৮২ রানে আউট হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত আবিদ মুস্তাক ২৬ রানে ও কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান ১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলার মহম্মদ শামি তিনটি ও মুকেশ কুমার দুটো উইকেট পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয় তৃতীয় দিনে বাংলার বোলাররা কত তাড়াতাড়ি জম্মু-কাশ্মীরের ইনিংস শেষ করে দিতে পারে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার ব্যাটসম্যানরা ঝোড়ো ইনিংস খেলতে পারেন। তাহলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে অসুবিধা হবে না।
Advertisement



