দিল্লি, ১৭ ফেব্রুয়ারি — দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশের উপর এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিবাদ ও উত্তেজনার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগামী এক মাস ক্যাম্পাসের ভিতরে কোনও ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল, ধর্না বা জনসমাবেশ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সংবেদনশীল এলাকা, প্রশাসনিক ভবন এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় কিছু জায়গায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষ এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজ ও ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনও ছাত্র বা সংগঠন নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ ছাত্রদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সামিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ছাত্রদের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানানো হলেও ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হলেও, এর ফলে ছাত্র রাজনীতি এবং আন্দোলনের উপর সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। আগামী এক মাস পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তার উপর নজর রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Advertisement



