তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
২৪
সৌম্য
Advertisement
আমি জেনেশুনে বিষ করেছি পান
Advertisement
‘সৌম্য, তা হলে তুই যা চেয়েছিস, তাই হোক৷ আমি আর কোনওদিন তোর কাছে কিছু চাইব না, তোর সামনে আর কোনওদিন যাবও না৷ আমার জীবন তেমন করে শুরুই হয়নি, তার আগেই জেনে ফেললাম জীবনের অনেক কঠিন পাঠ৷ এরপর আমার জীবন কোন পথে যাবে, তা ঠিক করে নিতে হবে আমাকেই৷ এতদিন যে-পথ মনে হয়েছিল মসৃণ আর সুন্দর, কুসুমাস্তীর্ণ, এখন সেই পথ হয়ে গেল কণ্টকাকীর্ণ৷ উপলব্ধি করছি সামনে অনেক কঠিন পথ৷ আমি জানি না, আর কত দূরে যেতে পারব৷ তোর উপর আমি খুব ভরসা করেছিলাম৷ এখন শূন্য হয়ে গেল সেই ভরসার জায়গাটা৷ একা চলতে চলতে হয়তো একদিন হারিয়ে যাব এই বিশাল পৃথিবীর কোথাও৷’
সৌম্য তখন তার প্রিয় সমুদ্ররঙের শার্ট আর মহিষ-কালো রঙের ট্রাউজার্স পরে প্রস্তুত হচ্ছে তার গবেষণাপত্র দেওয়ার পর সাক্ষাৎকারের জন্য৷ ঠিক সেই মুহূর্তে এরকম একটি হোয়াটস্যাপ বার্তা পেয়ে মনটা খিঁচড়ে গেল খুব৷
কিন্তু এই মুহূর্তে বিষয়টা নিয়ে বেশি ভাবলে চলবে না৷ তার জীবনের আজ একটা বিশেষ দিন৷ গবেষণার শেষে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার উপর নির্ভর করছে তার পরবর্তী কেরিয়ার৷
গত রাতে প্রায় ঘুম হয়নি তার৷ রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে গত কয়েক বছর যা-যা পড়েছে, যে সব তথ্য ব্যবহার করেছে গবেষণাপত্রে, তা আর একবার খুঁটিনাটি পড়ে নিয়েছে৷ যখন রাতে ঘুমোতে গেল, ঘড়িতে রাত তিনটে৷ আবার অ্যালার্ম দিয়ে উঠে পড়েছে ভোর ছ’টায়৷ এখন যদি অলির বার্তা নিয়ে ভাবতে বসে, তা হলে বারোটা বেজে যাবে ইন্টারভিউয়ের৷
দ্রুত তৈরি হয়ে, হাতে ফোলিও ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে৷
ঘণ্টখানেক পর সে যখন পৌঁছোতে পারল বাংলা বিভাগীয় প্রধানের চেম্বারের সামনে, আর পনেরো মিনিট বাকি তার নাম ডাকতে৷
তখন সে ঘামছে দরদর করে৷ যতটা না গরমে, তার চেয়েও বেশি উৎকণ্ঠায়৷ রুমাল দিয়ে ঘাড়-পিঠ মুছতে মুছতে শুনল ঘোষণা হচ্ছে তার নাম৷ ফোলিও গুছিয়ে উঠে দাঁড়ায় সৌম্য৷
দরজা খুলে দেখল সামনের চেয়ারে আসীন বিভাগীয় প্রধান চিত্তরঞ্জন পাল৷ সৌম্য দু’হাত জোড় করে নমস্কার জানিয়ে এগিয়ে গেল সোজা৷ চেয়ারে বসার আগে ডানদিকে এক সুদর্শনা মহিলা, সম্ভবত ইনি বাইরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, সামনে রাখা নেমপ্লেটে লেখা মধুরিমা বিশ্বাস, নমস্কার জানাল তাঁকে৷ বাঁদিকে এক সুবেশ ভদ্রলোককে নমস্কার করতে গিয়ে কয়েক মুহূর্ত আড়ষ্ট হয়ে গেল তার হাত৷
পরনে চক্রাবক্রা মেরুন রঙের হাওয়াই শার্ট, ফরসা গায়ের রং, বেশ তীক্ষ্ণ চেহারার মানুষটি নিশ্চয় এক্সটারনাল৷ কিন্তু তাঁকে চেনা-চেনা লাগছে তার৷ টেবলে তাঁর সামনে লেখা নেমপ্লেট দেখে আরও চমকে উঠল৷ ইনিই তা হলে চিত্রজিৎ চৌধুরি।
অলির মোবাইলে একবার দেখেছিল এঁর ছবি৷ তাঁকে নমস্কার জানিয়ে চেয়ারে বসে সৌম্য অনুভব করছিল তার গায়ে আবারও ঘাম দেখা দিচ্ছে৷ যদিও ঘরে এসি চালু, কিন্তু তার এখন উত্তেজনা চরমে৷
বিভাগীয় প্রধান তার নাম-ধাম ইত্যাদি জানার পর প্রশ্ন করলেন তার গবেষণার বিষয়ে৷ কেন এরকম একটি ব্যতিক্রমী বিষয় বেছে নিল গবেষণার জন্য, তা জিজ্ঞাসা করলেন খুঁটিয়ে৷ তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন মধুরিমা বিশ্বাস৷ তারপর বিভাগীয় প্রধান বললেন, সৌম্যর গবেষণার বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারেই নতুন৷ এ-বিষয়ে আমাদের জ্ঞানও অতি সামান্য৷ যা জিজ্ঞাসা করার মি. চৌধুরি করবেন৷
সৌম্যর বুকের ভিতর ধক-ধক, ধক-ধক৷
—সৌম্য, আমারও বিস্ময় জাগছে এরকম একটি নতুন বিষয় কেন বাছলেন আপনার গবেষণার জন্য৷ রবীন্দ্রনাথ একেবারে শেষ বয়সে পৌঁছে হঠাৎ ছবি আঁকা শুরু করলেন কেন?
সৌম্যর অস্বস্তি লাগছিল, এত বড়ো একজন শিল্পী তাকে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করছেন। উত্তরে বলল, স্যার, আপনি জানেন, শেষ বয়সে ছবি আঁকতে শুরু করলেও তাঁর পাণ্ডুলিপি যখন সংশোধন করতেন, সেই আঁকিবুকির মধ্যেও সৃষ্টি হতো এক-একটি ছবি৷ কখনও পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠায় সৃষ্টি করেছেন একটা গোটা ছবি৷ পরে, সাতষট্টি বছর বয়সে শুরু করলেন প্রকৃত ছবি আঁকা৷
—সৌম্য, রবীন্দ্রনাথ কখনও অ্যাকাডেমিক শিক্ষা দিয়ে ছবি আঁকতে আসেননি৷ তা হলে যে-ছবি এঁকেছেন, তা কী ধরনের ছবি, তা আপনি ব্যাখ্যা করতে পারেন?
—স্যার, ছবি-আঁকার বিষয়ে তিনি প্রথম থেকে মুক্ত পুরুষ৷ বাইরে থেকে কোনও নির্দেশ পাননি ছবি আঁকার জন্য৷ কেউ কখনও বলেননি এই ধরনের ছবি আঁকো বা ওই ছবিটা আঁকো৷ এরকম কোনও বাইরের শক্তি নির্দেশ দেয়নি বলে তিনি তাঁর খুশিমতো ছবি এঁকেছেন৷ তাঁর ছবিতে এমন অনেক বিষয় আছে, যা অন্য শিল্পীরা আঁকেননি৷ কখনও এঁকেছেন নিজের মনগড়া ছবি৷ কিছু বিষয় এসেছে মনের গভীর থেকে তুলে আনা, যা তাঁর কবিতাতেও নেই, এমন অনেক বিষয় এসেছে তাঁর ছবিতে৷ কখনও এঁকেছেন গাছের অন্ধকার, কখনও সন্ধের অন্ধকার৷ কখনও অচেনা পশুর শরীর, কখনও মানুষের শরীর৷ কখনও পাখি৷ কখনও দুই ভিন্ন শরীরের যমজ রূপ৷ কখনও প্রকৃতির সৌন্দর্য, তার অসীম বৈচিত্র্যে ধরা দিয়েছে তাঁর তুলিতে৷
সৌম্য উত্তর দিচ্ছে আর ঘামছে ভিতরে-ভিতরে৷ তাকে কেন ‘আপনি’ সম্বোধন করছেন? স্যার কি তাকে চিনতে পেরেছেন! হয়তো চিনেছেন, তাই ‘আপনি’ বলছেন হয়তো অলমিতি তার সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছে৷ তাই তিনি সৌম্যর উপর কূপিত৷ তার মনে পড়ল রবীন্দ্রগানের দুটি কলি:
আমি জেনেশুনে বিষ করেছি পান৷
প্রাণের আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ৷৷
খুব উত্তেজনার বশে অলিকে বলে ফেলেছে অনেক কটূ কথা৷ এখন আফশোস হচ্ছে৷ অলির সঙ্গে এতটা খারাপ ব্যবহার করা উচিত হয়নি৷ স্যারের সঙ্গে ইছামতী বাংলোয় গিয়েছিল শুনে তার মাথাটা হঠাৎ এত গরম হয়ে গেল৷
তার সামান্য অন্যমনস্কতার মধ্যে স্যার চলে গেছেন পরবর্তী প্রশ্নে, বললেন, ফাইন৷ তা হলে এবার কিছু বলুন রবীন্দ্রনাথের ছবি-আঁকার টেকনিক বিষয়ে৷
—স্যার, তাঁর ছবি–আঁকা মানেই সৌন্দর্যের চিত্রায়ণ৷ ছবির রেখা, তার রং, ছবির ফর্ম, এগুলো তিনি ভালো বুঝতেন৷ তিনি আঁকতে শুরু করতেন এলোমেলোভাবে৷ সেই অগোছালো ছবির ভিতর থেকে তৈরি করতে চেষ্টা করতেন ছবির স্ট্রাকচার৷ কখনও একটা ছবি আঁকতেন বিকৃত করে৷ তার ভিতর থেকে খুঁজে বার করতেন ছবির আকার৷ রবীন্দ্রনাথ খুব দ্রুত ছবি আঁকতে পারতেন৷ এক–একদিনে পাঁচটা–ছটা ছবি আঁকতেন৷ রানি মহলানবীশকে একটি চিঠি লিখে বলেছিলেন, ‘যখন কিছু ভালো লাগে না, তখন ছবি আঁকি৷ কিন্তু আমার ছবি রেখার ছবি, রঙের ছবি, ভাবের ছবি নয়৷’ টেকনিকের আর একটা দিক হল মাধ্যম৷ কী ধরনের কালি ব্যবহার করতেন, কী রকম রঙ ব্যবহার করতেন৷ তিনি ব্যবহার করতেন জার্মান ইঙ্ক প্যাস্টেল৷
সৌম্য বলছে, আর শঙ্কিত হচ্ছে৷ তার উত্তর যথাযথ হচ্ছে বলেই ধারণা৷ কিন্তু অলির মুখ যখনই মনে পড়ছে, নিশ্চিত হচ্ছে স্যার তাকে ফেল করিয়ে দেবেন৷ কেন যে অলির সঙ্গে ওরকম করতে গেল!
যতই দেখি তারে ততই দহি,
আপন মনজ্বালা নীরবে সহি,
তবু পারিনে দূরে যেতে, মরিতে অসি—
লই গো বুক পেতে অনলবাণ৷৷
প্রেমিকের দর্শনে দহন বেড়ে যায় প্রেমিকার৷ সেই মনজ্বালা সহ্য করে চলেছে নীরবে৷ অলিকে দূরে সরিয়ে দিতে সত্যিই তো চায়নি, তাকে ছেড়ে কি থাকতে পারে!
ভালোবাসা এমন একটা বিষয়, যা একই সঙ্গে মধুর ও জটিল৷ তাকে দেখতে ইচ্ছে করে সারাক্ষণ, না-দেখলে মন-খারাপ, আবার অভিমান হলে নীরবে দহন চলতে থাকে ভিতরে৷
—সৌম্য, রবীন্দ্রনাথের ছবি তাঁর একান্তই নিজস্ব, অন্য কোনও শিল্পীর সঙ্গে তাঁর তুলনা হয় না৷ এই বাক্যটিকে অপনি কীভাবে ব্যখ্যা করবেন?
—স্যার, রবীন্দ্রচিত্রকলার বিষয়-ভাবনা, টেকনিক ও ডিজাইন সবই ছিল তাঁর নিজস্ব৷ কোনও প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য শিল্পরীতি অনুসরণ করেননি তিনি৷ আমরা জানি ভারতীয় চিত্রকলার কয়েকটি ধারা প্রচলিত, যেমন, রাজপুত, কাংরা, মুঘল— এগুলির কোনও রীতিই প্রভাব ফেলেনি তাঁর শিল্পকলায়৷ তাই আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি তাঁর ছবি আঁকার ধরন একেবারেই নিজের রীতি অনুযায়ী৷
চিত্রজিৎ চৌধুরি ততক্ষণ চোখে জরিপ করছেন সৌম্যর বলার ধরন, বলার বিষয়৷ আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর নিজের চিত্রকলা সম্পর্কে কী মনোভাব পোষণ করতেন?
সৌম্য ধারণাই করতে পারেনি তার গবেষণাপত্রের ইন্টারভিউয়ে এত প্রশ্নবাণ ছুটে আসবে তাকে লক্ষ্য করে৷ সে ক্রমশ নিশ্চিত হচ্ছে তাকে ফেল করিয়ে দেওয়ার জন্যই এক্সপার্ট জুরি এভাবে নাকাল করার চেষ্টা করছেন—
যতই হাসি দিয়ে দহন করে
ততই বাড়ে তৃষা প্রেমের তরে,
প্রেম অমৃতধারা ততই যাচি
যতই করে প্রাণে অশনি দান৷৷
স্যার বুঝতে পারছেন না তার মুখে হাসি, অথচ ভিতরে চলছে দহন৷ বেড়ে চলেছে প্রেমের তৃষ্ণা৷ সেই প্রেম যতই চাইছে, ততই বজ্রের মতো আঘাত করছে তার প্রাণে৷
হাসি-হাসি মুখে বলল, রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন ঈশ্বর কোনও মানুষকেই সম্পূর্ণভাবে গড়ে তোলেননি৷ তাই চিত্রকলার মাধ্যমে মানুষ পূর্ণতার স্বাদ খোঁজে৷ রূপ, লাবণ্য, সৌন্দর্য সাধনায় ব্যাপৃত হয়৷ শিল্প কোনও অন্ধ অতীতের নিঃসঙ্গ সমাধি নয়, শিল্পীর জীবনপ্রবাহের সঙ্গে ওতপ্রোত৷
একটু থেমে সৌম্য আবার বলল, স্যার, রবীন্দ্রনাথ বলতেন মানুষের ভিতর-মনে সর্বদাই নানা ভাঙচুর চলে৷ কখনও জোড়াতালি দিয়ে বাঁচতে হয়৷ একই সঙ্গে মনের ভিতর ফুটে ওঠে নানা ছবি৷ আগে তাঁর মন কান পেতেছিল আকাশে৷ বাতাস থেকে ভেসে আসত সুর৷ সেগুলো ধরা পড়ত কলমের ডগায়৷ এখন সেই জায়গায় আসতে শুরু করেছে রেখার জগৎ৷ সেই রেখা এমন পেয়ে বসেছে যার হাত থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না৷ একটা বটগাছ, এক টুকরো পাথর, একজন বুড়ি, যাই হোক না কেন, সেখানেই ছোঁয়া পাচ্ছেন অসীমের৷
সৌম্য হয়তো আরও বলত, তাকে থামিয়ে দিয়ে চিত্রজিৎ স্যার বললেন, রবীন্দ্রনাথের একটা ছবি আছে ঘরের জানলা দিয়ে আলো আসছে, ভিতরে অনেকগুলো ফিগার৷ ছবিটা দেখে আমার মনে পড়েছিল পিকাসোর একটি ছবি৷ তার নাম ‘অ্যাভিয়োর মহিলারা’৷ সেখানেও একটা ফিগারের সঙ্গে আর একটা ফিগারের টানাটানি চলছে৷ হঠাৎ সন্দেহ হয়, রবীন্দ্রনাথের ছবিটা কি পিকাসো প্রভাবিত!
সৌম্য চমকে উঠে বলল, সন্দেহ!
—আদৌ বিষয়টা নিয়ে সন্দেহ করা চলে না৷ রবীন্দ্রনাথের সব ছবিই তাঁর নিজস্ব৷ কিন্তু সন্দেহ এমন বস্তু, যা একবার ভিতরে প্রবেশ করলে আর বার করা যায় না৷ তুমি কী বলো?
সৌম্য বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে থাকে স্যারের দিকে৷
চিত্রজিৎ এবার হেসে বললেন, ঠিক আছে, আমার যা জিজ্ঞাসা করার, তা হয়ে গেছে৷ এবার বিভাগীয় প্রধান যা বলার, তা বলবেন৷
বিভাগীয় প্রধান বললেন, আমার মনে হয়, আপনি যা জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর আর কিছু জানার নেই৷ ঠিক আছে, সৌম্য, এবার তুমি যেতে পারো৷
সৌম্য ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ জানিয়ে উঠে এল একবুক বিভ্রান্তি নিয়ে৷ চিত্রজিৎ স্যার শুধু যে কঠিন-কঠিন প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করে তাকে নাস্তানাবুদ করেছেন, তা নয়, শেষ বাক্যটিতে ভরে দিয়েছেন এক দুরূহ সংকেত৷ সন্দেহ বস্তুটি একবার মনে ঢুকে গেলে আর বেরোতে পারে না, কেন বললেন এরকম একটি অদ্ভুত কথা? তবে কি অলি তাদের দু’জনের মধ্যে যে মনোমালিন্য ঘটেছে, তা সব বলে দিয়েছে স্যারের কাছে! সৌম্য যে অলিকে সন্দেহ করে তার সঙ্গে ব্রেকআপ করেছে তাও কি জানিয়েছে স্যারকে! তাই স্যার গবেষণা সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে একটি ব্যক্তিগত প্রশ্নও ভরে দিলেন তার মনে৷
আজ সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর মুখে অলি তাকে যে-বার্তা দিয়েছে তারপরে সে কি আর সৌম্যকে ক্ষমা করতে পারবে।
(আগামী সমংখ্যায় সমাপ্য)
অলঙ্করণ: সোময়েত্রী চট্টোপাধ্যায়
Advertisement



